নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাড়িতে পৌঁছলেও এখনই খাওয়া যাবে না আম্রুত প্রকল্পের জল। ওই জল খাওয়ার জন্য জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো দশদিন। তাও আবার শহরের সমস্ত বাসিন্দা এই জল পাবেন না। কারণ, জলপাইগুড়ি পুর এলাকার ২৫টি ওয়ার্ডে ৩৬ হাজার হোল্ডিং থাকলেও প্রথম পর্যায়ে ১৯ হাজার বাড়িতে পৌঁছল এই জল। যা নিয়ে তোপ দেগেছেন বিরোধীরা। কেন সব বাড়িতে একসঙ্গে জল পৌঁছে দেওয়া গেল না, সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ শহরের একাংশের বাসিন্দারাও।
শনিবার আম্রুতের জল সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন করে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, আরো ১৬ হাজার হোল্ডিংয়ে শীঘ্রই পানীয় জল পৌঁছে দিতে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন খড়িয়া পঞ্চায়েতের বিবেকানন্দপল্লি এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও এদিন তা পৌঁছায়নি। এনিয়ে চেয়ারম্যানের দাবি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই এলাকায় আম্রুতের জল পৌঁছে যাবে।
এদিকে, এদিন বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহ শুরুর আগে শহরের একাধিক এলাকায় পাইপ লিক করে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোপ দাগেন বিরোধীরা। যদিও চেয়ারম্যান জানান, সরবরাহ শুরু হলে জলের চাপে পাইপ লিক করবে, পাইপ ফাটবে, এটাই স্বাভাবিক। সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের কাজও চলবে। জল সংক্রান্ত সমস্যা শুনতে এদিন একটি হেল্প লাইন চালু করেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আগামী ৫ মার্চ থেকে ৮৩৮৯৮৪৫২৮৬ নম্বরে সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ফোন করে আম্রুতের পানীয় জল সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে পারবেন বাসিন্দারা।
ঠিক কবে থেকে শহরবাসী এই জল খেতে পারবেন? এনিয়ে পুরপ্রধানের বক্তব্য, পিএইচইকে দিয়ে আমরা একবার জল পরীক্ষা করিয়েছি। রিপোর্ট ঠিক আছে। তাও আমরা ঝুঁকি নিচ্ছি না। সেকারণে কয়েকদিন পর ফের একবার পিএইচইকে দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। তার পর রিপোর্ট দেখে আমরা শহরবাসীকে জল খেতে বলব।
২০১৫-১৬ সালে আম্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু হয় জলপাইগুড়িতে। একাজে বরাদ্দ হয় ১৪৫ কোটি টাকা। এদিন শহরের মাদ্রাসা ময়দানে জল সরবরাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়াররা জানান, বালাপাড়ায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করা হয়েছে। তিস্তার জল পরিশোধন করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আটটি রিজার্ভারে যাচ্ছে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে পৌঁছচ্ছে বাড়ি বাড়ি। একাজের জন্য শহরের মধ্যে প্রায় ২১৫ কিমি পাইপ লাইন পাতা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি জলের লাইন দিতে খরচ করা হয়েছে বাড়তি ১৫ কোটি টাকা। চেয়ারম্যানের দাবি, জলপাইগুড়ি শহরে এখন প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষের বাস। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে আরো একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যানের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেটিরও অনুমোদন মিলেছে।