সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটিতে সরকারি টাকা জলে। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও চালু হল না নলহাটি বাসস্ট্যান্ড। রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে তিন বিঘা জমির উপর প্রায় ১কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাসস্ট্যান্ড এখন মদ, গাঁজার আসর সহ নানা অসামাজিক কাজের ‘সেফ’ জায়গা হয়ে উঠেছে। তেমনই শেড সহ ঢালাইয়ের নানা অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে। এদিকে সড়কের উপর বাসগুলি দাঁড়ানোয় যানজট হচ্ছে। স্বভাবতই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
২০১২ সালে ২৪মার্চ রাজ্যের দুই মন্ত্রী নুরে আলম চৌধুরী ও চন্দ্রনাথ সিংহের উপস্থিতিতে ওই বাসস্ট্যান্ডের উদ্বোধন হয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটি শহরের উপর দিয়ে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসের জন্য বাসস্ট্যান্ডটি তৈরি করা হয়। বহরমপুর, লালগোলা, ফরাক্কা, মালদহ, কৃষ্ণনগর, শিলিগুড়ি, সিউড়ি, আসানসোল, দুর্গাপুর, পুরুলিয়া, খড়্গপুর, বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন দূরপাল্লার সরকারি ও বেসরকারি বাস ওই স্ট্যান্ডে ঢোকার কথা ছিল। একইভাবে নলহাটি থেকে রামপুরহাট, চাতরা, মুরারই, রাজগ্রাম, মহুরাপুর, মহেশপুর, বৈধরা, বিশোড়, কুশমোড় রুটে চলাচলকারী বাসগুলিও এই বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যাত্রী প্রতীক্ষালয়ও করা হয়। বসানো হয় স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি। বাসস্ট্যান্ডের নামকরণও হয় স্বামীজির নামেই।
কিন্তু উদ্বোধনের পর ১২বছর পেরিয়ে গেলেও বাসস্ট্যান্ডটি সাধারণ মানুষের কোনও উপকারে আসছে না। দিনে যাত্রী প্রতীক্ষালয় সহ পুরো বাসস্ট্যান্ড চত্বর এখন মদ, গাঁজা সহ নানা নেশা করার জায়গায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে অসামাজিক কাজকর্ম শুরু হয়ে যায়। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, যত্রতত্র মদের বোতল ও প্লাস্টিকের গ্লাস সহ নানা জিনিস পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিঙ্কু শেখ বলেন, ঘটা করে উদ্বোধন হলেও আজও বাসস্ট্যান্ডটি চালু হল না। জনগণের করের টাকা জলে গেল। বর্তমানে নোংরা, আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। অসামাজিক কাজকর্মের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই, সংস্কার করে বাসস্ট্যান্ডটি চালু করা হোক। এলাকাবাসীর আর্থসামাজিক উন্নতি ঘটবে। এখন এলাকার লরি সহ অন্যান্য যানবাহনের পার্কিংস্থল হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় চায়ের দোকান চালান এনামুল হক। তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডটির জরাজীর্ণ অবস্থা হওয়ায় রাতে এখানে কুকর্ম চলে। বাসস্ট্যান্ডটি চালু হলে এলাকার মানুষের উপকার হবে। যাত্রীদের আনাগোনা হলে দোকানে বিক্রিও বেড়ে যাবে।
বাসস্ট্যান্ড চালু না হওয়ার পিছনে পুরসভার পরিকল্পনার অভাবকেই দায়ী করেছেন বাস মালিকরা। রামপুরহাট মহকুমা বাস মালিক সমিতির সম্পাদক জামারুল ইসলাম বলেন, বাসস্ট্যান্ডটি নারকেলতলা বাসস্টপ থেকে এক কিমি দূরে। ফলে মুরারই থেকে আসা বাসগুলিকে অতিরিক্ত এক কিমি দূরে যেতে হবে। ফলে সময়ও একটা সমস্যা। তেলও বেশি খরচ হবে। কারণ আমাদের নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস চলাতে হয়। তাছাড়া নারকেলতলা থেকে এত ছোট যানবাহন চলছে যে এমনিতেই আমাদের ব্যবসা মার খাচ্ছে। তার উপর স্ট্যান্ডে বাসগুলি ঢুকে আবার নারকেলতলায় ফিরে এসে দেখব কোনও যাত্রী নেই। নারকেলতলা সংলগ্ন এলাকায় বাসস্ট্যান্ড গড়ে উঠলে এই সমস্যা থাকত না।
পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এলাকার বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং বলেন, সেই সময় অপরিকল্পিতভাবে বাসস্ট্যান্ডটি গড়ে ওঠায় আজও তা চালু করা যায়নি। নারকেলতলার কাছাকাছি জাতীয় সড়কের ধারে নতুন করে বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলার জন্য জায়গা খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।
বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বাসস্ট্যান্ডটি চালু করা না গেলে দোকানঘর গড়ে তোলা হোক। বহু বেকার ব্যবসা করে খেতে পারবে।