নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নেই ইমার্জেন্সি অক্সিজেন সাপোর্ট। নেই সেফটি হেলমেট। হাতে গ্লাভস কিংবা পায়ে রবারের জুতোও মেলে না। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও শহরের ম্যানহোল পরিষ্কার করতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নামানো হয় রক্ত-মাংসের মানুষকে। মাত্র জনা কুড়ি সাফাইকর্মীর উপর নির্ভর করেই গোটা হাওড়া শহরে ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজ। কিন্তু তাঁদের সুরক্ষার দিকে এক শতাংশও নজর দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। বছরখানেক আগে খাতায়-কলমে অন স্পট অ্যাম্বুলেন্স চালু হলেও তা কখনই চোখে পড়েনি বলে জানাচ্ছেন সাফাইকর্মীরা।
হাইকোর্টের নির্দেশ, ম্যানহোল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে লোক না নামিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি অবলম্বন করতে হবে পুরসভাগুলিকে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় ডিসিল্টিং মেশিন, বাকেট মেশিন, জেট কাম সাকশন মেশিন ব্যবহার করে ম্যানহোল পরিষ্কার করা হয়। তবে ম্যানহোলে নতুন পাইপলাইন বসানো কিংবা কোনও মেরামতির ক্ষেত্রে লোক নামানোর প্রয়োজন হলে সমস্ত ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়। কিন্তু যমজ শহর হাওড়ায় এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো পদ্ধতিতে লোক নামিয়ে চলছে ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজ চলছে। জানা গিয়েছে, মাত্র ২০ জন অস্থায়ী সাফাইকর্মীকে দিয়ে ৫০টি ওয়ার্ডের ম্যানহোল পরিষ্কার করানো হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট, গ্লাভস, রবার বুট, সেফটি হার্নেস জাতীয় কোনও সরঞ্জামই পান না তাঁরা। ম্যানহোলে বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে কি না, তা কোনওরকমে পরীক্ষা করেই লোক নামিয়ে দেওয়া হয় নীচে। ‘প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ম্যানহোলে নামতে হয় আমাদের’, বলছেন ওই সাফাইকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ‘খালি হাত-পায়ে ম্যানহোলে নামলে অনেক সময় চোট লাগে। কেটে যায়। কিন্তু ওষুধের খরচ দেয় না পুরসভা। করোনার সময় গোটা শহরে আবর্জনা সাফাইয়ের কাজ করেছি আমরা। এক জোড়া মাস্ক বা এক টুকরো সাবান বাদে কিছুই মেলেনি।’
হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘যে জায়গায় ম্যানহোল সাফাইয়ের কাজ হয়, সেখানে সব সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সাপোর্ট সহ ইমার্জেন্সি চিকিৎসার সব ব্যবস্থা থাকবে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যানহোলে নামা শ্রমিকদের জন্য এক বছর আগে এই পরিষেবা চালু হয়েছিল। কিন্তু একদিনের জন্যও অ্যাম্বুলেন্সকে আসতে দেখেননি সাফাইকর্মীরা। গত মে মাসে ফোরশোর রোডে কেএমডিএ’র স্যুয়ারেজ লিফটিং স্টেশনের ম্যানহোলে কাজ করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে মৃত্যু হয় দুই ঠিকা শ্রমিকের। ম্যানহোলে কাজ করা কর্মীদের অনেকেই বলেন, ‘অনেক সময় উপর থেকে আবর্জনার স্তর দেখে ম্যানহোলের নীচে জলের গতি বোঝা যায় না। ফোরশোর রোডের ম্যানহোলগুলিতে জলের ভীষণ স্রোত থাকে। একটু অসাবধান হলেই মৃত্যু অনিবার্য। তাও আমাদের নিরাপত্তার সরঞ্জাম ছাড়াই নীচে নামতে হয়।’ যদিও হাওড়া পুরসভার দাবি, ম্যানহোল ডিসিল্টিং করার ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ম্যানহোলে নামছেন, তাঁদের সুরক্ষা দেবে কে? তার সদুত্তর মেলেনি।-নিজস্ব চিত্র