Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাত্র এক ন্যানোগ্রাম বিস্ফোরকও চিহ্নিত করা যাবে, ইভিডি যন্ত্র কিনছে লালবাজার

যাদুঘর, স্কুল, প্রশাসনিক ভবন সহ একাধিক জায়গায় পরপর বোমাতঙ্কের মেল। সবকটি ক্ষেত্রেই সেই বার্তা ভুয়ো হলেও, বম্ব স্কোয়াডকে আরও আধুনিক করে তুলতে তৎপর লালবাজার।

মাত্র এক ন্যানোগ্রাম বিস্ফোরকও চিহ্নিত করা যাবে, ইভিডি যন্ত্র কিনছে লালবাজার
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

 স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: যাদুঘর, স্কুল, প্রশাসনিক ভবন সহ একাধিক জায়গায় পরপর বোমাতঙ্কের মেল। সবকটি ক্ষেত্রেই সেই বার্তা ভুয়ো হলেও, বম্ব স্কোয়াডকে আরও আধুনিক করে তুলতে তৎপর লালবাজার। কোথাও বোমা ‘প্লান্ট’ করা হলে তা থেকে অদৃশ্য রাসায়নিক গ্যাস উৎপন্ন হয়। সেই গ্যাস বা রাসায়নিক বাষ্প থেকে মিলবে বিপদ সঙ্কেত, চিহ্নিত হবে বিস্ফোরক। এমনকী বিস্ফোরকের পরিমাণ যদি এক ন্যানোগ্রাম ওজনেরও হয়, তাও শনাক্ত  করা যাবে। অত্যাধুনিক এক্সপ্লোসিভ ভেপার ডিটেকশন (ইভিডি) যন্ত্র কিনছে লালবাজার। কী ধরনের বিস্ফোরক ‘প্লান্ট’ করা হয়েছে? তা বিস্ফোরণে কী ক্ষতি হতে পারে?— সব তথ্যই মিলবে যন্ত্রে স্ক্রিনে। লালবাজার সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে দু’টি যন্ত্র কেনা হবে। যার বাজারদর ৬০ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যে সেই মর্মে দরপত্র ডেকেছে লালবাজার। বিভিন্ন সংস্থার নমুনা দেখে যন্ত্রটি কেনা হবে বলে লালবাজার সূত্রের খবর। অত্যাধুনিক ইভিডি যন্ত্রটি লালবাজারের বম্ব স্কোয়াড বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হবে। 

Advertisement

গতবছর রাতে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ডিভাইডারের উপর একটি সুতলি বোমার মতো জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড। কোনওরকম বিপদ এড়াতে সেটি আগে জলে ফেলা হয়। লালবাজারের দাবি, ইভিডি যন্ত্র থাকলে প্রায় দু’মিটার দূর থেকেই কোনও সন্দেহজনক বস্তু থেকে রাসায়নিক গ্যাস বের হচ্ছে কি না, তা জানা যাবে। তাতে কী ধরনের বিস্ফোরক রয়েছে, তাও চিহ্নিত করতে পারবে ইভিডি যন্ত্র। সেক্ষেত্রে তা নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে বিশেষ সচেতনতা অবলম্বন করতে পারবেন বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরা। 
ইভিডি যন্ত্রটি ১ ন্যানোগ্রাম পর্যন্ত সূক্ষ্ম বিস্ফোরক চিহ্নিত করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এই ন্যানোগ্রামটি কী?  লালবাজারের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ গ্রাম বিস্ফোরককে ১০০ কোটি ভাগে বিভক্ত করলে, প্রতি ভাগকে ১ ন্যানোগ্রাম বলা হয়। অর্থাৎ, সূক্ষ্মাতি সূক্ষ্ম রাসায়নিক বাষ্পকেও ডিটেক্ট করতে পারবে অত্যাধুনিক যন্ত্র। বাষ্প, কণা, তরল সহ যেকোনও অবস্থায় জৈব বা অজৈব বিস্ফোরক চিহ্নিত করতে সক্ষম ইভিডি। অভিজ্ঞ গোয়েন্দারা বলছেন, আগে কৌটো বোমা দেখা যেত। স্টিল বা অ্যালুমিনিয়াম কোটের ভিতরে বিস্ফোরক ‘প্লান্ট’ করা হতো। এমন কোনও ঘটনা ঘটলে ইভিডির ‘নজর’ থেকে লুকনো যাবে না। পুলিস সূত্রে খবর,   তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি হোক কিংবা ৫৫ ডিগ্রি, দু’ক্ষেত্রেই  স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবে এই যন্ত্র। 
কীভাবে কাজ করে এই ইভিডি? মাত্র ২ কেজি ওজনের এই যন্ত্র বম্ব স্কোয়াডের একজন আধিকারিকের একার পক্ষেই সামলানো সম্ভব। যন্ত্রের উপরের অংশে রয়েছে একটি ২ ইঞ্চির রঙির এলইডি ডিসপ্লে। সন্দেহজনক বস্তুর ২ মিটারের মধ্যে এই যন্ত্র নিয়ে গেলেই ডিসপ্লেতে দেখা যাবে বিস্ফোরকের নাম। শুধু তাই নয়, যন্ত্রে থাকছে স্পিকারও। ভিস্যুয়ালের পাশাপাশি বিস্ফোরকের নাম শোনাবে ইভিডি। ‘রিয়েল টাইম ডিটেকশন’ অ্যানালিসিস ধরা পড়বে স্ক্রিনেই। কী প্রকারের বিস্ফোরক, কতটা রয়েছে, কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব কি না, সবটাই জানিয়ে দেবে এই অত্যাধুনিক যন্ত্র। লালবাজার সূত্রে খবর, এই যন্ত্র পুলিসের হাতে প্রথম আসছে। তাই এটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণের। যন্ত্র কেনার আগেই ‘ডেমো সেশন’ শুরু করবে লালবাজার। 

সম্পর্কিত সংবাদ