সংবাদদাতা, দিনহাটা: ছুটির পর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার একদল ছাত্রী। বাইকে চড়ে পিছু নেওয়া ইভটিজারদের হেনস্তার শিকার হয়ে অবশেষে ঘটে বিপত্তি। ছাত্রী নিয়ে চলা টোটোতে সজোরে ধাক্কা মারে উত্যক্তকারীদের বাইক। ঘটনাস্থল দিনহাটার নটকোবাড়ি চৌপথি। দুর্ঘটনায় পাঁচ ছাত্রী সহ ন’জন জখম হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে দু’জন বাইক আরোহীর অবস্থা গুরুতর।
শুক্রবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর টোটো করে বাড়ি ফিরছিল বেশ কয়েকজন ছাত্রী। সেই সময় বাইকে করে একদল যুবক টোটোর পিছু নেয়। তারা ক্রমাগত টোটোর সামনে পিছনে বাইক ঘুরিয়ে ছাত্রীদের উত্যক্ত করতে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, বাইকের গতি এতটাই বেশি ছিল যে তারা একাধিকবার টোটোকে ওভারটেক করে কখনও পাশ ঘেঁষে এসে গায়েপড়ার মতো আচরণও করে। এমন আতঙ্কের পরিবেশে ছাত্রীরা টোটোর মধ্যে বসে চিৎকার শুরু করে। কিন্তু বাইক আরোহীদের হেনস্তার মাঝেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।
চোখের পলকে ঘটে যায় সবকিছু। নটকোবাড়ি চৌপথির কাছে আচমকাই একটি বাইক অন্য বাইকে ধাক্কা মারে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দু’টি বাইকই গিয়ে ধাক্কা মারে টোটোতে। যাত্রীবোঝাই টোটো উল্টে যায়। মাটিতে ছিটকে পড়ে ছাত্রীরা সহ টোটোচালক এবং বাইক আরোহীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে। হাসপাতাল সুপার ডাঃ রঞ্জিত মণ্ডল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজন ছাত্রী রয়েছে। দু’জন বাইক আরোহীর আঘাত গুরুতর। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অভিভাবক মহলের প্রশ্ন, বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত আমাদের মেয়েরা কোথাও নিরাপদ নয়? প্রতিদিন টোটো ধরে ফিরতে হয়, কিন্তু রাস্তায় কেউ তো নজর রাখে না! স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দিনহাটায় এর আগেও ছাত্রীদের ইভটিজিং হয়েছে। বহুদিন ধরেই স্কুল পড়ুয়াদের পিছু নেওয়া, টোটো থামিয়ে মন্তব্য ছোড়া— এই সব ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কোনও কঠোর নজরদারি বা আইন প্রয়োগ দেখা যায় না। পুলিসের কোনও নজরদারি নেই। সাহেবগঞ্জ থানা জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।