সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: স্নাতকস্তরে পড়ার জন্য আর দূরের কলেজে যেতে হয় না। শিক্ষারত্নপ্রাপক শিক্ষক ও এলাকার শুভানুধ্যায়ীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এলাকায় সরকারি কলেজ মিলেছে। আদিবাসী অধ্যুষিত বেলিয়াবেড়ায় কলেজ পেয়ে খুশি পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। কলেজ হওয়ায় অনেক পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
এই প্রত্যন্ত এলাকায় কলেজ তৈরি হবে-তা স্থানীয়দের অনেকেই স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। এরাজ্যে তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠার পর ২০১৩ সালে গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের বেলিয়াবেড়ায় কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের জমিতে গভর্নমেন্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজ গড়ে ওঠে। ২০১৫সাল থেকে এই কলেজে পঠনপাঠন শুরু হয়। এখন কলেজে ৩৮০জন পড়ুয়া রয়েছে। বাংলা, ইংরেজি সহ পাঁচটি বিষয়ে মেজর কোর্স চালু হয়েছে।
এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন বেলিয়াবেড়া কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত মহাপাত্র। বাম জমানার রাজনৈতিক রোষানল, প্রাণনাশের হুমকি সহ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে কলেজ প্রতিষ্ঠায় শেষ হাসি হেসেছেন তিনি। তাঁর এই অবদান মনে রেখেছেন এলাকার মানুষ। ২০২৩ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে শিক্ষারত্ন সম্মান দিয়েছে।
কুলটিকরি থেকে এই এলাকায় শিক্ষকতা করতে এসেছিলেন সুব্রতবাবু। তিনি এসে জানতে পারেন, এলাকার ৭০শতাংশ মানুষই তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত। এলাকার মেধাবী পড়ুয়ারাও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। সেজন্য তিনি এলাকায় কলেজ তৈরির বিষয়ে স্থানীয়দের নিয়ে সাপ্তাহিক বৈঠক শুরু করেন। কলেজ তৈরির জন্য প্রথমে একটি পরিচালন সমিতি, পরে ‘জঙ্গলমহল ডেভেলপমেন্ট এডুকেশন সোসাইটি’ গঠন করেন। ২০১৩সালের ১০ অক্টোবর প্রশাসনের থেকে এই কলেজ তৈরির জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাওয়া যায়।সুব্রতবাবু বলেন, কাছাকাছি সরকারি কলেজ না থাকায় আমার বহু মেধাবী পড়ুয়া উচ্চমাধ্যমিকের পর পড়াশোনায় ইতি টেনেছে। সেজন্য কলেজ তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক, প্রশাসন ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত কিস্কু বলেন, স্থানীয় ছেলেমেয়েরাই এই কলেজে পড়াশোনা করছে। সরকারি কলেজ হওয়ায় পড়ার খরচ একেবারে কম। বেলিয়াবেড়ার শিক্ষানুরাগী অবনীকুমার বিশাল বলেন, কলেজ তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। প্রশাসন ও সবার সহযোগিতায় কলেজ তৈরি হয়। তবে সুব্রতবাবু অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। উনি কলকাতায় ছোটাছুটি করে সবকিছু করেছেন। কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী অরুণিমা মহাপাত্র বলেন, আমাদের বাড়ির কাছেই কলেজ হয়েছে। ফলে আমাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হল।