Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

পুরনো পদ্ধতিতে কিশোরীর খাদ্যনালী থেকে কয়েন বের করে অসাধ্য সাধন

ঢাল তরোয়াল বিহীন নিধিরাম সর্দাররাও যে কখনও সখনও যুদ্ধ জয় করে ফেলতে পারে, তার প্রমাণ রাখলেন দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডাক্তার আসফাকুল্লা নাইয়া।

পুরনো পদ্ধতিতে কিশোরীর খাদ্যনালী থেকে কয়েন বের করে অসাধ্য সাধন
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ঢাল তরোয়াল বিহীন নিধিরাম সর্দাররাও যে কখনও সখনও যুদ্ধ জয় করে ফেলতে পারে, তার প্রমাণ রাখলেন দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডাক্তার আসফাকুল্লা নাইয়া। ডিজিটাল যুগে যন্ত্রপাতি, পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া যেখানে ডাক্তাররা এক পা-ও চলতে চান না, সেখানে আসফাকুল্লা আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই তাঁর শিক্ষকের শেখানো অতি পুরনো এক পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাজিমাৎ করে ফেললেন।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে দেবেন মাহাতো হাসপাতালের হাতুয়াড়া ক্যাম্পাসে এক দম্পতি তাঁদের বছর তেরোর মেয়েকে নিয়ে হাজির হন। তাঁরা জানান, ছোট্ট এক শিশুর সঙ্গে খেলার সময়ে আচমকাই ওই কিশোরীর মুখে একটি ২০ টাকার কয়েন ঢুকে যায়। মূহূর্তেই ওই কয়েন সোজা তার খাদ্যনালীতে পৌঁছে যায়। বেগতিক বুঝে পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি কিশোরীকে নিয়ে হাতুয়াড়া ক্যাম্পাসে পৌঁছন। এই পরিস্থিতিতে বিনা কাটাচেরায় কয়েন বের করা যেতে পারে একমাত্র ইসোফেগোস্কোপির মাধ্যমে। কিন্তু তাতে যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, তা হাসপাতালে নেই। অতএব দ্বিতীয় উপায় হল, বাঁকুড়া হাসপাতালে মেয়েটিকে রেফার করে দেওয়া। কিন্তু আসফাকুল্লা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখেন, বাঁকুড়া হাসপাতালে যেতে যেতে কয়েনটি কিশোরীর খাদ্যনালী থেকে পাকস্থলীতে চলে যেতে পারে। তখন আর অস্ত্রোপচার ছাড়া কোনও রাস্তাই খোলা থাকবে না। তখনই তাঁর স্মরণে আসে তাঁর শিক্ষক ডাঃ দেবব্রত দাসের শেখানো পুরনো এক পদ্ধতির কথা। ডাঃ দাস পুরুলিয়ারই বাসিন্দা। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কাজে লাগতে পেরে ভেবে তিনি ওই পদ্ধতি তাঁর ছাত্রদের শিখিয়েছিলেন। ডাঃ আসফাকুল্লা সেই পদ্ধতিই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। 
তিনি একটি ইউরিনারি ক্যাথেটার ব্যবহার করে মাত্র ১০ মিনিটে কিশোরীর গলায় আটকে থাকা কয়েনটি বের করে আনেন। চিকিৎসক আসফাকুল্লা বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ও ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বিচার করে প্রাচীন পন্থা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তাতেই সাফল্য এসেছে। আমার সহকর্মীদের  সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ সম্ভব ছিল না। এমএসভিপি সুকমল বিষয়ী বলেন, ওই চিকিৎসক অসাধ্য সাধন করেছেন। আমরা গর্বিত। ডাক্তার আসফাকুল্লার কর্মদক্ষতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের স্বাস্থ্যকর্তারা। তাঁদের কথায়, আসফাকুল্লা অসাধ্য সাধন করেছেন। অন্যদিকে, কিশোরীর পরিবারের সদস্যরাও চিকিৎসকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ