সংবাদদাতা, হলদিয়া: শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য দ্রুত ইএসআই হাসপাতাল চালু করার দাবিতে সরব হয়েছে হলদিয়ার শিল্প সংস্থাগুলি। জেলাশাসক পূর্ণেন্দুকুমার মাজির কাছে এনিয়ে দরবার করেছেন হলদিয়া পেট্রকেম, হলদিয়া এনার্জি লিমিটেডের মতো একাধিক শিল্প সংস্থার পদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, হলদিয়ায় ইএসআইয়ের নতুন হাসপাতাল তৈরি হলেও এখনও চালু হচ্ছে না। ফলে শিল্প সংস্থাগুলির শ্রমিক কর্মচারীদের ৮০-১০০ কিলোমিটার দূরে উলুবেড়িয়া বা নদী পেরিয়ে জোকায় যেতে হচ্ছে। দুর্ভোগ বাড়ছে শ্রমিক, কর্মচারীদের। অভিযোগ, হলদিয়ার ইএসআই হাসপাতাল তৈরির পর বছর দেড়েক ধরে পড়ে রয়েছে। এনিয়ে কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। আলোচনা করে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক হলদিয়ার ইএসআই হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন থমকে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, হলদিয়া ও শিলিগুড়ির ইএসআই হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই টালবাহানা করা হচ্ছে।
হলদিয়ায় ইএসআই হাসপাতালের দাবিতে দু’ দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক কর্মচারীরা। হলদিয়ার দুর্গাচকে মহকুমা হাসপাতালের পাশে একটি ভাঙাচোরা বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ইএসআই-এর ডিসপেনসারি চালু ছিল। স্থায়ী সরকারি ভবন না মেলায় ক্ষুদিরাম স্কোয়ার লাগোয়া একটি ভাড়াবাড়িতে আপাতত ওই ডিসপেনসারি স্থানান্তরিত হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা বা অপারেশনের প্রয়োজনে ইএসআই কার্ড হোল্ডারদের নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালে ছুটতে হয়। ইদানিং সেই সুযোগও বন্ধ হওয়ায় কলকাতা ছুটতে হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও জায়গায় ২১ হাজারের বেশি ইএসআই কার্ড হোল্ডার থাকলে তবেই সেখানে ইএসআই হাসপাতাল তৈরির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রের ম মন্ত্রকের অধীন ইএসআই কর্পোরেশন। বর্তমানে হলদিয়ায় প্রায় ২৫ হাজার ইএসআই কার্ড হোল্ডার রয়েছেন। বছর ছ›য়েক আগে হলদিয়ায় ইএসআই হাসপাতাল অনুমোদন পায়। হলদিয়া পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে রায়চকে গড়ে উঠেছে ১০০ বেডের বিশাল ইএসআই হাসপাতাল ও আবাসন। হলদিয়ার বিসি রায় হাসপাতালের অদূরেই প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচে তৈরি হয়েছে নতুন হাসপাতাল ভবন।
পেট্রকেম ও হলদিয়া এনার্জির দুই আধিকারিক জেলাশাসককে বলেন, আমাদের শ্রমিক কর্মচারীরা হলদিয়ায় ইএসআই সার্ভিস ডিসপেনসারি থেকে ঠিকমতো সুযোগ ঠিকমতো পাচ্ছে না। প্রশাসন এই বিষয়ে নজর দিলে সবাই উপকৃত হবে। দ্রুত ইএসআই হাসপাতাল চালুর জন্য আর্জি জানিয়েছেন সমস্ত শিল্প আধিকারিকরা। অন্যদিকে, শ্রমিকদের বক্তব্য, ইএসআই কার্ডে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নানা ভোগান্তি হচ্ছে। অপারেশনের জন্য কলকাতা দৌড়তে হয়। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়ার ইএসআই হাসপাতালটি রাজ্য সরকারকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রীকে রাজ্য চিঠি দিয়েছিল। রাজ্য সরকার এটি পরিচালনা করতে চেয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীকে জানাচ্ছি। যাতে তিনি ফের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকে বিষয়টির ফলোআপ করেন। তিনি বলেন, এভাবে তৈরির পর দীর্ঘদিন হাসপাতাল পড়ে থাকা কাম্য নয়। এই গড়িমসিতে পরিকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছেন শ্রমিক কর্মচারীরা। রাজ্য সরকার এই হাসপাতাল চালাবে এই বিষয়ে সম্মত হওয়ার পরও কেন কেন্দ্র টালবাহানা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঋতব্রত। এই বিষয়টি তিনি ফের সংসদে তুলবেন বলে জানিয়েছেন।