Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এশিয়ান হাইওয়েতে এবার অহরহ মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত, মৃত্যু ঠেকাতে একজোট বনদপ্তর-পুলিস

এশিয়ান হাইওয়েতে এবার অহরহ মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত, মৃত্যু ঠেকাতে একজোট বনদপ্তর-পুলিস
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: এশিয়ান হাইওয়ে-২তে হামেশাই বন্যপ্রাণী এবং মানুষের সংঘর্ষে ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনও মৃত্যু হচ্ছে বন্যপ্রাণের। আবার কখনও তাদের হামলায় জখম হচ্ছেন পথচারীরা। হচ্ছে মৃত্যুও। সেই তদন্তে নেমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, গাড়ির গতিবেগ অনিয়ন্ত্রিত থাকার ফলে এই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। এবারে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে এশিয়ান হাইওয়েতে যৌথভাবে নজরদারি বাড়াবে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিস এবং কার্শিয়ং বনবিভাগ। ইতিমধ্যে এই প্রসঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক হয়েছে। বাগডোগরায় এশিয়ান হাইওয়ের কার্শিয়ং বনবিভাগ সংলগ্ন বেশকিছু এলাকায় বন্যপ্রাণীর করিডোরগুলোকে চিহ্নিত করা সম্পন্ন হয়েছে। সেই সকল এলাকায় প্রয়োজনে পুলিসপোস্ট বসিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হবে। গাড়ি-মোটরবাইক থেকে শুরু করে লরি, সমস্ত পরিবহণকে নির্দিষ্ট গতিবেগে চলার নির্দেশ দেওয়া হবে। যার ফলে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের নিত্যদিন হওয়া এই দুর্ঘটনাগুলি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন পুলিস ও বনদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। 
Advertisement
এই ব্যাপারে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, বনদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা গাড়ির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখছি। নির্দিষ্ট একটি গতিবেগের বেশি এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হবে। প্রয়োজনে পুলিসপোস্ট বসিয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। কার্শিয়ং বনদপ্তরে ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে লাগাতার বেশ কিছু দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিসের সঙ্গে যৌথআলোচনা করে আমরা গাড়ির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে  নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি।
নকশালবাড়ি সংলগ্ন এশিয়ান হাইওয়ে-২তে মাঝেমধ্যেই চিতাবাঘের দেহ উদ্ধার হয়। গত এক বছরে অন্ততপক্ষে পূর্ণ বয়স্ক চিতাবাঘের পাঁচটি দেহ উদ্ধার করেছে বনদপ্তর ও পুলিস। তদন্তে নেমে পরে জানা যায়, প্রচণ্ড গতিতে চলা গাড়ির ধাক্কায় এমন ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি, এশিয়ান হাইওয়েতে হাতির হানায় মৃত্যু হয়েছিল দুই ভাইয়ের। তদন্তে জানা যায়, ওই দুই ভাইও প্রায় ৮০ কিমি গতিতে বাইক চালিয়ে হাতির সামনে পড়ে গিয়েছিলেন। পরে হাতির হামলায় মৃত্যু হয় তাঁদের। পুলিস ও বনদপ্তরের দাবি, এশিয়ান হাইওয়ের কেষ্টপুর, গোঁসাইপুর এলাকা দিয়ে নিত্যদিন হাতি, চিতাবাঘ ঘুরে বেরায়। মূলত ওই এলাকা ছাড়াও নকশালবাড়ির হাতিঘিষাও হাতির করিডোর। ওই সকল এলাকাকে চিহ্নিত করেছে বনদপ্তর। পরে পুলিসের সঙ্গে আলোচনা করে গতি নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ কিমি গতিতে ওই এলাকা দিয়ে গাড়ি চলাচল করা হবে বলে স্থির হয়েছে। দ্রুত এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ