Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসো বন্ধু হতে, সয়লা মেলায় বন্ধুত্বের উৎসব

এসো বন্ধু হতে, সয়লা মেলায় বন্ধুত্বের উৎসব
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ১৩ বছর বাদে মঙ্গলবার ইন্দাসের গোবিন্দপুরে রায়দিঘীর মাঠে বন্ধুত্বের মিলন উৎসব ‘সয়লা’য় মাতলেন এলাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি চারটি গ্রামের সম্মিলিত মনসা পুজো উপলক্ষ্যে সয়লা উৎসবের আয়োজন করা হয়। পছন্দের সই বেছে নেওয়ার অভিনব এই উৎসব উপলক্ষ্যে এদিন বিকালে রায়দিঘীর মাঠে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ জড়ো হন। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মিলনের এই মেলায় অধিকাংশই তাঁদের পছন্দের বন্ধুকে মাল্যদান, কপালে সিঁদুর, চন্দনের টিপ, বরণডালা দিয়ে বরণ করে নেন। তবে এই উৎসবে পুরুষরা পুরুষকে এবং মহিলারা মহিলাদেরই বন্ধু হিসেবে বরণ করেন। বালক বালিকা থেকে শুরু করে প্রবীণরাও উৎসবে শামিল হন। প্রত্যেকেই বরণের পর আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে বন্ধুত্বকে স্বীকার করেন। 
Advertisement
সয়লা উৎসব কমিটির সভাপতি সন্দীপ দে বলেন, ১২ বছর অন্তর আমাদের সয়লা উৎসব পালন করা হয়। তবে গত বছর অশৌচের কারণে তা হয়নি। সেজন্য এবারে আয়োজন করা হয়েছে। এদিন সকাল থেকে ঠাকুরানি পুষ্করিনীতে মা মনসার পুজো আরম্ভ হয়। বিকালে রায়দিঘীর মাঠে সয়লার মূল অনুষ্ঠান হয়। সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান হয়। বন্ধুত্ব পাতানোর অনুষ্ঠান একদিনের হলেও তিনদিন ধরে চলা উৎসবে যাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক গ্রাম ঠাকুরারানী পুষ্করিনী, গোবিন্দপুর, শিমুলিয়া এবং দশরথবাটি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা মেলায় আসেন। সম্প্রীতির ওই  উৎসবে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দাস থানা এলাকায় ‘সহেলা’ বা স্থানীয় ভাষায় ‘সয়লা’ উৎসবের প্রচলন হয় বহু বছর আগে। তৎকালীন সময়ে এলাকায় বর্ণভেদ প্রথা ব্যাপকভাবে প্রচলন ছিল। তাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অশান্তিও ছড়াত। তৎকালীন বর্ধমানের রাজার এক সজ্জন নায়েব এলাকায় খাজনা আদায় করতে এসে তা দেখে খুবই ব্যথিত হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি এলাকায় বিভিন্ন পুজোয় সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ করার বিষয়ে উদ্যোগ নেন। সেই থেকে বর্ধমান সীমানায় বাঁকুড়ার ইন্দাস এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সর্বধর্মের মিলন মেলা আরম্ভ হয়। যার নাম হয় ‘সয়লা’। তবে এই উৎসব স্থান ভেদে ৪, ৫, ৭, ৯ ও ১২ বছর অন্তর হয়। কিছুদিন আগেই স্থানীয় আকুই গ্রামে ৫ বছর বাদে সয়লা উৎসব হয়েছে। সেরকম ভাবেই ঠাকুরানী পুষ্করিনী, গোবিন্দপুর, শিমুলিয়া ও দশরথবাটি এই চারটি গ্রামের বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে ১২ বছর অন্তর সয়লা উৎসবের আয়োজন করেন। হিসেব মতো গতবছরই এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতবছর অশৌচ থাকায় এবারে ১৩ বছর বাদে তা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা ওই মেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন।  
উদ্যোক্তারা বলেন, সয়লার প্রস্তুতি শুরু হয় একমাস আগে থেকেই। এদিন বিকেলে রায়দিঘীর মাঠে বিশেষ পুজোপাঠের পর সয়লার অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। ওই উপলক্ষ্যে গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে আত্মীয় স্বজনরা আসেন।  কোতুলপুরের খুনডাঙা এলাকার বাসিন্দা প্রীতম দাস বলেন, আমি এবারই প্রথম গোবিন্দপুরে রায়দিঘীর মাঠে সয়লা দেখতে এসেছি। এদিন নতুন নতুন বেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী একে অপরকে আলিঙ্গনবদ্ধ হয়ে বন্ধু পাতিয়েছি। মেলায় পুরুষ মহিলা বহু মানুষকে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে দেখে খুব ভালো লেগেছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ