নয়দিল্লি: রাজধানীতে এসআইআর চলাকালীন বিজেপির একাধিক বিএলএ-র বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবারও সামনে এল একই অভিযোগ। ভোটাররা নিজেদের ঠিকানাতেই রয়েছেন। অথচ তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ভুয়ো ফর্ম ৭ জমা করেছেন বিজেপির বিএলএ চন্দ্রশেখর নাইনওয়াল। দিল্লির মুস্তাফাবাদের ঘটনা। সম্প্রতি সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’-তে এমনই এক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এরপরই শুক্রবার সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলএ-র বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হলেন মুস্তাফাবাদ বিধানসভার ইআরও। পুলিশের কাছে বিএলএ-র বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় এফআইআর দায়ের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এনিয়ে সরব হয়েছে হাত শিবির। কংগ্রেস নেতা পবন খেরার কথায়, মুস্তাফাবাদ একটা উদাহরণ। এই ঘটনাই বলে দেয়, ষড়যন্ত্র করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার হাতিয়ার হল এসআইআর। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুস্তাফাবাদের ১২৯ পার্টে ভোটারদের নাম বাদের আবেদন জানিয়ে প্রথম দফায় ২৮টি ফর্ম ৭ জমা দিয়েছেন বিজেপির বিএলএ চন্দ্রশেখর নাইনওয়াল। এরপর ২৯-৩০ অক্টোবর আরও ন’টি ফর্ম জমা দেন তিনি। আবেদনপত্রে কারণ হিসাবে বলা হয়েছে এই ভোটাররা অনুপস্থিত বা স্থায়ীভাবে অন্যত্র বসবাস করেন এবং মৃত। পরের দিকে ৩৭টি ফর্ম যাচাই করেন বিএলও ও এইআরও। দেখা যায়, যে তিনজনকে মৃত হিসাবে দেখানো হয়েছে, আসলে তাঁরা সকলেই জীবিত এবং নিজেদের ঠিকানায় রয়েছেন। বাকিরাও নিজেদের ঠিকানাতেই বসবাস করেন। এনিয়ে উত্তর-পূর্ব দিল্লির জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অজয় কুমার জানান, পুরো বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করেছেন আধিকারিকরা। দেখা গিয়েছে, ৩৭টি ফর্ম ৭-এর মধ্যে ৩৬টি ভুয়ো। সেইমতো অভিযুক্ত বিএলএ-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া মোট ১ হাজার ২১টি ফর্ম ৭-এর ৭৭ শতাংশই করেছেন বিজেপির ২০ জন বিএলএ। মুসলিম ভোটারদের নিশানা করেই ফর্মগুলি জমা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।



