Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এপিক নম্বরে গরমিল, নজির বেশি রানিনগরে

এপিক নম্বরে গরমিল, নজির বেশি রানিনগরে
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সভায় ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ডোমকল মহকুমার কথা। বাস্তবে দেখা গেল, একটি-দু’টি নয়, ডোমকল মহকুমার অন্তর্গত রানিনগর বিধানসভার ভোটার তালিকায় গরমিল বিস্তর। রানিনগর বিধানসভার কোনও বুথে ৩০, কোনওটিতে ৪০, কোনও বুথে আবার ৬৮টি ভূতুড়ে ভোটারের সন্ধান মিলল দিন দুয়েক স্ক্রুটিনির পর।  

Advertisement

রানিনগর বিধানসভার প্রচুর ভোটারের এপিক কার্ড নম্বরের সঙ্গে মিল রয়েছে হরিয়ানা, গুজরাতের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যের ভোটারদের এপিক নম্বরের। মূলত ‘এক্স’, ‘ওয়াই’ ও ‘জেড’ সিরিজের এপিক কার্ডেই গরমিল বেশি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ডোমকল মহকুমায় একই এপিক নম্বরের সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছেন রানিনগর বিধানসভায়।
রানিনগর বিধানসভার মালিবাড়ি ১ অঞ্চলের ১৬০ নম্বর বুথের ৬৭ জন ভোটারের এপিক নম্বরের সঙ্গে মিল রয়েছে বাইরের রাজ্যের ভোটারের এপিক নম্বরের। একই অবস্থা হুড়শি অঞ্চলের ৩৪ জনের। তাঁদের ভোটার কার্ডে থাকা এপিক নম্বর হুবহু মিলে যাচ্ছে হরিয়ানার ৩৪ জন ভোটারের এপিক নম্বরের সঙ্গে। কালীনগর ২ অঞ্চলের ২০৪ নম্বর বুথে ২১ জন এমন ভোটার রয়েছে।
সূত্রের খবর, স্ক্রুটিনি শেষে শুধু রানিনগর বিধানসভার চক ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই প্রায় ১১৫০ জনের এপিক নম্বরে এমন গরমিল সামনে এসেছে। তাঁদের এখানে ভোটার কার্ড থাকলেও ওই একই এপিক নম্বরে ভোটার কার্ড রয়েছে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের। শুধু চক ইসলামপুর নয়, ওই একই বিধানসভায় টেকরায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৭৮৬টি, হেরামপুর পঞ্চায়েত এলাকায় ৬৪৯টি, পাহাড়পুরে ৬৪১টি, লোচনপুরে ৫৮৫ জন ভোটারের এপিক নম্বরে এমন গরমিল সামনে এসেছে।
তৃণমূলের দাবি, যেভাবে ভূরি ভূরি গরমিল পাওয়া যাচ্ছে, তাতে শুধুমাত্র রানিনগর বিধানসভা এলাকাতেই ওই সংখ্যা ৫০০০ ছাড়িয়ে যাবে। তাঁদের অভিযোগ, স্বচ্ছ ভাবে এই বিধানসভা দখল করতে না পারায়, পিছনের দরজা দিয়ে তা দখল করতে চাইছে বিজেপি।
রানিনগরের বিধায়ক আব্দুল সৌমিক হোসেন বলেন, এগুলো বিজেপির ষড়যন্ত্র। রানিনগর বিধানসভাকে টার্গেট করে এমন ভূতুড়ে ভোটার যুক্ত করা হয়েছে। বিজেপির এই চক্রান্ত কিছুতেই সফল হবে না। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির এই ষড়যন্ত্র রুখে দেব আমরা।
এদিকে জলঙ্গিতে যুবকের বাড়িতে পৌছাল দু’টি ভোটার কার্ড। আর তা ঘিরেই শুরু হয়েছে শোরগোল। নতুন ভোটার কার্ডের জন্য নাম তুলেছিলেন একবার। নিয়মানুসারে ভোটার কার্ড পাওয়ার কথা একটিই। কিন্তু ভোটার কার্ড এল দু’টি। এমনকি দু’টি ভোটার কার্ডে থাকা নাম, বয়স, বাবার নাম, এমনকি ছবিও একই। অথচ দু’টির এপিক নম্বর একে অপরের ভিন্ন। কোনটি আসল আর কোনটি নকল? তা নিয়েই ধন্দে রয়েছে যুবকের পরিবার। জলঙ্গির চোয়াপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কীর্তনিয়াপাড়ার এক যুবকের বাড়ি দু’টি ভোটার কার্ড পৌঁছতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , ওই যুবকের নাম রাকিব মন্ডল। রাকিব জলঙ্গির কীর্তনিয়াপাড়ার বাসিন্দা। সাবালক হওয়ার পর গত বছর ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেছিল রাকিব। ওই আবেদনের ভিত্তিতে মাস কয়েক পর সোমবার পোস্ট মারফৎ তাঁর ভোটার কার্ড আসে। যুবকের দাবি, পিয়ন এসে তাঁকে জানায়, তাঁর নামে দু’টি চিঠি এসেছে। এরপরে খাম খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সকলের। দেখা যায় দু’টি খামের মধ্যেই রয়েছে দু’টি ভোটার কার্ড। কার্ডে থাকা নাম, বয়স, বাবার নাম সবই এক। এমনকি দু’টি কার্ডেই রয়েছে একই ছবি। তবে একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই দেখা যায় দু’টি ভোটার কার্ডের এপিক নম্বর আলাদা। আর তাতেই ধন্দে পড়ে যায় পুরো পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হতেই যুবকের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায় স্থানীয় তৃণমূল। তাঁরাও রীতিমতো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।
ওই যুবক বলেন, সোমবার পিয়ন এসে আমাকে ওই চিঠি দু’টো দেয়। চিঠি  দু’টো খুলে দেখি দু’টোতেই রয়েছে দু’টি ভোটার কার্ড। ভোটার কার্ড দু’টিতে সবকিছু এক থাকলেও এপিক নম্বর আলাদা আলাদা। পুরো বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত আছি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন,  টেকনিক্যাল কোনও কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেব। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ