নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নির্ধারিত দিনের সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ইপিএফওর সাম্প্রতিক পে-রোল ডেটা প্রকাশ করল না মোদি সরকার। ঘোষণামতো ২০ অক্টোবর প্রকাশিত হতো শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) সাম্প্রতিকতম পে-রোল ডেটা। অথচ নির্ধারিত দিনের ন’দিন পরেও এ ব্যাপারে কোনও উচ্চবাচ্যই করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিকভাবেই গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ পে-রোল ডেটা প্রকাশিত হলে দেশের বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের প্রকৃত ছবিটা সামনে আসে। কর্মী পিএফ (ইপিএফ) শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক। তাই ইপিএফে নতুন গ্রাহকের সংখ্যাই বুঝিয়ে দেয়, দেশে কাজের সুযোগের বাস্তব চিত্রটা ঠিক কেমন। জল্পনা, দেশব্যাপী বেহাল কর্মসংস্থান নিয়ে আরও বেআব্রু হওয়ার ভয়েই এহেন রিপোর্ট প্রকাশ করতে অনীহা রয়েছে মোদি সরকারের। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসের ইপিএফওর পে-রোল ডেটায় উল্লেখ করা হয়েছিল, এ সংক্রান্ত পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে ২০ অক্টোবর। কিন্তু তা হয়নি।
এবিষয়ে শ্রমমন্ত্রক বা কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন সূত্রে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। যদিও মন্ত্রক সূত্রে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, দীপাবলি, ভাইদুজের (ভাইফোঁটা) মতো বিভিন্ন উৎসবের কারণে কার্যালয় বন্ধ ছিল। কিছু ক্ষেত্রে অফিস খোলা থাকলেও কর্মী-আধিকারিকদের অনেকেই ছিলেন ছুটিতে। ফলে সবমিলিয়ে অক্টোবর মাসের পে-রোল ডেটা প্রকাশ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে। বেহাল কর্মসংস্থানের অভিযোগও সাফ অস্বীকার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এখনও পর্যন্ত ইপিএফওর সর্বশেষ পে-রোল ডেটায় মোদি সরকারের চাকরির ফানুস ফুটো হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে সারা দেশে ইপিএফে নতুন গ্রাহকের সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাসপ্রাপ্তির ছবি ধরা পড়েছিল ওই রিপোর্টে।