নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্ট্যাম্প ছাড়া শুধু সই করেই ভোটারদের এক কপি করে ইনিউমারেশন ফর্ম দিচ্ছেন বিএলওরা। এনিয়ে বরানগর ও উত্তর শহরতলিতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, কলকাতা শহরে ফর্মের নীচে বিএলও সই করার পাশাপাশি স্ট্যাম্পও দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বাসন্তীর শিবগঞ্জে এক বিএলওর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামলেন গ্রামবাসীরা। রাস্তা অবরোধ থেকে বিক্ষোভ সবই চলল বৃহস্পতিবার বিকেলে। আন্দোলন থেকে তাঁরা সেই বিএলওর অপসারণের দাবি তুললেন।
বারাকপুর মহকুমা জুড়ে এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা দিচ্ছেন শহরবাসী। কিন্তু যে ফর্মটি ভোটারের কাছে থাকছে তাতে কেন স্টাম্প মারা হচ্ছে না, এই প্রশ্নে নাজেহাল করা হচ্ছে। যদিও বিএলওদের দাবি, কমিশন স্ট্যাম্প দিতে বলেনি। ফর্মে স্ট্যাম্প মারার জন্য কমিশনকে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। বারাকপুর মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বিএলওদের যুক্তিরই পুনরাবৃত্তি করেছেন।
বরানগরে ভরা ফর্ম এসপ্তাহ থেকেই নিচ্ছেন বিএলওরা। ভোটারের প্রাপ্য কপিতে বিএলও সই করেও স্ট্যাম্প মারছেন না। এতে বহু ভোটার ক্ষুব্ধ। বনহুগলির প্রাক্তন অধ্যাপিকা সুবর্ণা দত্ত বলেন, আমরা কমিশনের গাইড লাইনে দেখছি, বিএলও সই করে এবং স্ট্যাম্প মেরে এক কপি ভোটারকে দেবেন। সোনারপুর, কলকাতাসহ বহু জায়গার বন্ধু ও আত্মীয়রা বলছেন, তাঁদের ফর্মে স্ট্যাম্প ও সই দেওয়া হচ্ছে। অথচ, আমাদের এখানে তা দেওয়া হচ্ছে না। তাতেই বিভ্রান্তি।
একাধিক বিএলও অবশ্য বলেন, আমরাও একই প্রশ্নে জর্জরিত হচ্ছি। স্ট্যাম্প মারার নির্দেশ না দেওয়া হলে আমরা কী করব? বরানগর পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) সদস্য তথা তৃণমূল নেতা রামকৃষ্ণ পাল বলেন, মানুষের বিভ্রান্তি কাটাতে কমিশনকে চিঠি দিয়েছি।
এদিকে, বাসন্তীর শিবগঞ্জ দক্ষিণপাড়ায় ২০৬ নম্বর বুথের বিএলও অমলেন্দু নেয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, ফর্ম বাড়ি বাড়ি দেওয়া হলেও তা পূরণ করার জন্য সাহায্য করা হচ্ছে না। বিএলও বাছাই করা কিছু লোকের ফর্ম ভরে দিচ্ছেন টাকার বিনিময়ে! তাঁর বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে সংশ্লিষ্ট বিএলও কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করেন বাসিন্দারা। বাসন্তী ব্লক প্রশাসন অবশ্য আধিকারিক পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কাজটি যাতে ঠিকমতো হয় তার জন্য ওই বিএলওর সঙ্গে আরও একজন সহকারীকে যুক্ত করা হয়েছে।