একই দিকে এন্ট্রি-এক্সিটের পথ, থানার গাফিলতি স্পষ্ট, তদন্তে তথ্য পেলেন সিট-এর কর্তারা
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগানের মণ্ডপে যে একই জায়গা দিয়ে প্রবেশ-প্রস্থানের (এন্ট্রি-এক্সিট) ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা জানত স্থানীয় থানা। কিন্তু তারপরও এই অব্যবস্থা থামাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।  উলটে পুজো কমিটির মন জুগিয়ে চলার চেষ্টা করেছে পুলিশ। চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পাচ্ছে লালবাজারের গঠিত ‘সিট’। স্থানীয় থানা কেন বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হল না, জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এক্ষেত্রে প্রভাবশালী কেউ থানায় ফোন করে ‘চোখ বুজে’ থাকার ‘নির্দেশ’ দিয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

চোরবাগানের ঘটনার তদন্তে নেমে ‘সিট’-এর কর্তাদের নজরে আসে, শুধু এন্ট্রি-এক্সিট ছোটোই নয়, একই দিকে রয়েছে দ্বিমুখী দুটি পথ। যা কোনোভাবেই আইন সঙ্গত নয়। কারণ, সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের নির্দেশিকায় বলা আছে, একই দিক দিয়ে ঢোকা-বেরোনার রাস্তা  করা যাবে না। সব সময় এক্সিট গেট থাকবে অন্যদিকে। বেরনোর পথ বেশি চওড়া হবে ঢোকার রাস্তায় তুলনায়, যাতে কোনো কারণে ভিড় অতিরিক্ত হয়ে গেলেও দ্রুত অনেকজন বেরিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া, দর্শনার্থীরা যাতে মুখোমুখি না হন, সেজন্যও দুটি গেট আলাদা দিকে করাটাই নিয়ম। অথচ চোরবাগানে এই নিয়মের তোয়াক্কাই করা হয়নি। দড়ি না থাকায় ঢোকা-বেরনোর সময়  ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছে দর্শনার্থীদের মধ্যে। যা থেকে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। ‘সিট’ জানতে পারছে, একই দিক দিয়ে ঢোকা-বেরনোর রাস্তা যে  করা হয়েছে, তা থানার নজরে না আসার কোনো কারণ নেই। সূত্রের খবর, থানা তা জানতও। তারপরেও কেন কোনো পদক্ষেপ করল না থানা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা। যদি প্রথমেই এটা আটকে দেওয়া যেত, তাহলে এত বড়ো ঘটনাই ঘটত না। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে গোটা বিষয়টি নিয়ে থানার একটি জিডি করে রাখা উচিত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে হেপাজতে থাকা অভিযুক্তরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এনিয়ে থানার তরফে কোনো অবজেকশনই আসেনি। ফলে নজরদারির ক্ষেত্রে থানার যে গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে। সূত্রের খবর, থানার এক এএসআই পুজো কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করছিলেন। তাঁকে কেন এই দায়িত্ব দেওয়া হল, তাও খোঁজ নিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পরিদর্শনে যাওয়া যৌথ কমিটি কেন  পদক্ষেপ করেনি, তাও জানার চেষ্টা চলছে।