নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এনসিইআরটিতে খালি রয়েছে প্রায় দু’হাজার পদ। এই কথা বলছে সরকারি রিপোর্টই। সবথেকে বেশি শূন্যপদ রয়েছে এনসিইআরটির গ্রুপ সি এবং ডি ক্যাটিগরিতে। অথচ এই ব্যাপারে কোনওরকম হুঁশই নেই কেন্দ্রের। শূন্যপদ পূরণে শিক্ষামন্ত্রকের বিরুদ্ধে এমনই গড়িমসির অভিযোগ তুলছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এনসিইআরটির শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ না হলে কি পাঠ্যবই ছাপানোর ক্ষেত্রে সমস্যা বৃদ্ধি পাবে? সেক্ষেত্রে কি আগামী দিনে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রবল সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে? যদিও মন্ত্রক সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। স্কুলের ছেলেমেয়েদের কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ে মোট পদের সংখ্যা ২ হাজার ৮২৫টি। এর মধ্যে কর্মী রয়েছেন ১ হাজার ১২টি পদে। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ১ হাজার ৮১৩টি। সরকারি রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে, এনসিইআরটিতে অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে কোনওরকম তৎপরতা দেখাচ্ছে না। ওই রিপোর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে, এনসিইআরটির গ্রুপ এ, গ্রুপ বি এবং গ্রুপি সি ও ডি ক্যাটিগরিতে মোট শূন্যপদের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৭৭টি, ৩৫৩টি এবং ১ হাজার ৮৩টি। গ্রুপ এ’তে ৬৫১টি, গ্রুপ বি’তে ৬৯৬টি এবং গ্রুপ সি ও ডি’তে ১ হাজার ৪৭৫টি শূন্যপদ রয়েছে এনসিইআরটির।
Advertisement
১৯৬১ সালের ৬ জুন সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় প্রথম আত্মপ্রকাশ করে এনসিইআরটি। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালের ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকার একে কাউন্সিল হিসেবে ঘোষণা করে। একটি স্বয়ংশাসিত সংস্থা হলেও এনসিইআরটি প্রধানত শিক্ষামন্ত্রকের আওতায় থেকেই কাজকর্ম করে। তাই এর শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রক তার ভূমিকা কোনওমতেই এড়িয়ে যেতে পারে না। পাঠ্যবইয়ের যাবতীয় প্রস্তুতির মতো গুরুদায়িত্ব তো আছেই। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রি-সার্ভিস এবং ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের মূল দায়িত্বও থাকে এনসিইআরটির ঘাড়েই। স্কুলশিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজকর্মও এদের দায়িত্ব। কর্মীর অভাবে এসবই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।



