Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আরামবাগে বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির প্রতিমার ভোগ চ্যাং মাছের ঝোল

আরামবাগ শহরে প্রাচীন পারিবারিক পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজো। প্রায় ১৫০ বছরের এই পুজো ঘিরে রয়েছে নানা রীতি।

আরামবাগে বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির প্রতিমার ভোগ চ্যাং মাছের ঝোল
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ শহরে প্রাচীন পারিবারিক পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজো। প্রায় ১৫০ বছরের এই পুজো ঘিরে রয়েছে নানা রীতি। দেবীদুর্গাকে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় চ্যাং মাছের ঝোল। এক সময় এই পুজোতে পাঁঠাবলির প্রথা চালু ছিল। করোনাকাল থেকে বলি প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল হয়ে যায় সিঁদুর খেলার রীতিও। তবে এবার থেকে ফের সিঁদুর খেলা চালু করা হবে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

আরামবাগ শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আদি বাড়ি ছিল বাঁকুড়ার পাত্রসায়র এলাকায়। দেড় শতাধিক বছর আগে পূর্ব পুরুষরা কর্মসূত্রে আরামবাগে চলে আসেন। সেইসময় বংশের রবীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নাদেশ পান। তারপরই আরামবাগের বাড়িতে সাবেকি দুর্গাপুজোর প্রতিষ্ঠা হয়। তাঁর বংশধররাই পুজো পরিচালনা করে আসছেন। আরামবাগ হাই স্কুলের উল্টোদিকে ব্যানার্জি পাড়ায় রয়েছে পরিবারের দুর্গা মণ্ডপ। সেখানেই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা এই পুজো পরিচালনা করেন। প্রত্যেক বছর জন্মাষ্টমী তিথি থেকেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। সেই সময়ই দেবীর প্রতিমায় প্রথম মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মহালয়ায় দেবীর চক্ষুদান করা হয়। ডাকের সাজে সাজানো হয় দুর্গাকে। ভক্তি, নিষ্ঠার সঙ্গে মাদুর্গার পুজো করেন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা। 
পরিবারের সদস্য সুশীলকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রায় ১৫০ বছর ধরে আমাদের পুজো হয়ে আসছে। আড়ম্বর করে পুজো করা হয় না। তবে ভক্তি, নিষ্ঠায় খামতি থাকে না। ভক্তিই আমাদের পুজোর প্রধান শক্তি। দেবীর স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী ন’রকমের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। তারসঙ্গে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দিতে হয় চ্যাং মাছের ঝোল। আর এক সদস্য বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুজোর রীতি সবরকমভাবেই মেনে চলা হচ্ছে। অষ্টমীতে আমরা পরিবারের সদস্যরা নিরামিষ খাই। কিন্তু, দেবীকে চ্যাং মাছের ঝোল প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয়। পুজোর সময় বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যরাও আসে। 
পরিবারের সদস্য মিঠু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের পুজোয় মহিলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমরা পুজোর দিনে পুষ্পাঞ্জলি দিই। প্রসাদের ব্যবস্থাপনাও আমরাই করি। এই পুজো ঘিরে শহরের বাসিন্দারাও আনন্দে মাতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ষষ্ঠী থেকে এখানে পুজো শুরু হয়। চলে দশমী পর্যন্ত। চ্যাং মাছের পাশাপাশি দেবীকে ন’রকমের ভাজা, মুগের ডাল, দু’রকম সবজি, পায়েস, চাটনি, মিষ্টিও দেওয়া হয়। অষ্টমীতে দেবীকে দেওয়া হয় খিচুড়ি ভোগ। তবে অষ্টমীর সন্ধিপুজোয় চাল ভাজা, লুচি, সুজি, মুড়কি ও নৈবেদ্য দেওয়ার রীতিও রয়েছে। দশমীতে মা দুর্গাকে চিঁড়ে, দই দেওয়া হয়। আগে প্রত্যেক দিনই পাঁঠাবলির প্রথা ছিল। কিন্তু, করোনার জেরে পাঁঠাবলির প্রথা বন্ধ করা হয়। তার পরিবর্তে ছাঁচি কুমড়ো বলির প্রথা চালু রয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ