নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: প্রকাশ্যে শৌচকর্মমুক্ত পরিচ্ছন্ন শহরের স্বীকৃতি পেল ইংলিশবাজার পুরসভা। বিগত কয়েক বছরে শহরজুড়ে ব্যস্ততম স্থানগুলিতে ৭৩টি শৌচাগার তৈরি করেছে পুরসভা। সেজন্য সম্প্রতি কেন্দ্রের স্বচ্ছ ভারত মিশনের তরফে ওডিএফ প্লাস (ওপেন ডিফিকেশন ফ্রি প্লাস) শিরোপায় ভূষিত হল এই পুরসভা। এসেছে ওডিএফ প্লাস শংসাপত্রও। এধরনের উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতিতে স্বভাবতই আপ্লুত পুর কর্তৃপক্ষ। পুরবাসী এবং নানা কাজে পুর এলাকায় আগত মানুষজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, পুরকর্মী, আধিকারিক এবং মানুষের সহযোগিতা ছাড়া শৌচকর্মমুক্ত পরিচ্ছন্ন শহর তৈরির লক্ষ্য অধরাই থেকে যেত। কেন্দ্রের তরফে ওডিএফ প্লাসের স্বীকৃতি পাওয়া সহজ ছিল না। সেই সঙ্গে আগামীতে এই কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কৃষ্ণেন্দুবাবুর সংযোজন আরও ৬৩টি নতুন শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। যেগুলিও ধাপে ধাপে তৈরি হবে।
পুরসভা সূত্রে খবর, ইংলিশবাজার পুর এলাকার ৪০ শতাংশ অংশ জুড়ে রয়েছে সরকারি অফিস, হাসপাতাল, থানা, স্কুল, কলেজ ইত্যাদি। বাকি ৬০ শতাংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের বাস। দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে পুরসভার ২৯টি ওয়ার্ডে পৌনে ৩ লক্ষ মানুষ বসবাস করে। প্রতিদিন নানা কাজে এই শহরে আসে আরও দু’লক্ষ মানুষ। ফলে দিন দিন জনঘনত্বের বিচারে ঘিঞ্জি হচ্ছে শহর। এমন অবস্থায় উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম বন্ধে বেশ কয়েকবছর ধরেই নানা উদ্যোগ শুরু হয়েছে সরকারি স্তরে। তারই অংশ হিসেবে শহরের ব্যস্ততম স্থান চিহ্নিত করে শৌচাগার তৈরির কাজ করে গিয়েছে ইংলিশবাজার পুরসভা। মূলত বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল, স্টেশন রোড, রথবাড়ি মোড়, আদালত চত্বর, স্পোর্টস কম্পাউন্ড, বাজার এলাকাগুলিতে একের পর এক শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও প্রচুর মানুষের সমাগম হয় এমন জায়গাতেও শৌচাগার তৈরি হয়েছে। যাতে মানুষ প্রকাশ্যে শৌচকর্ম এড়িয়ে চলে। শুধু তাই নয়, শৌচাগারগুলির পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে চলে সাফাইয়ের কাজ। আর এই সমস্ত বিষয় সরেজমিনে সার্ভে করে কেন্দ্রীয় সরকার এই পুরসভাকে ওডিএফ প্লাসের স্বীকৃতি দিয়েছে।
পুরসভা জানিয়েছে, সম্প্রতি আচমকাই কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল ইংলিশবাজারে আসে। তারা শহর ঘুরে দেখে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকাগুলি। খোলা জায়গায় শৌচকর্ম আদৌ হয় কি না, পাবলিক এবং কমিউনিটি টয়লেটগুলির ব্যবহার ঠিকঠাক হয় কি না, সেগুলি ব্যবহারের পর্যাপ্ত পরিবেশ আছে কি না তাও খুঁটিয়ে দেখে তারা। এরপরই কেন্দ্রের কাছ থেকে ওডিএফ প্লাসের স্বীকৃতি মিলেছে। নিজস্ব চিত্র