ইংল্যান্ড-৬ : ফ্রান্স-৪
ইংল্যান্ড-৬ : ফ্রান্স-৪
রঞ্জন চৌধুরি: ১০ গোলের ম্যাচ! এমন ফল ফুটবলপ্রেমীদের চমকে দেবেই। টেনিস বা বাস্কেটবল নয়! বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে কার্যত গোলের উৎসব। একের পর এক রেকর্ড। নোটবুকের পাতাও শেষ। ইংল্যান্ড বনাম ফ্রান্সের লড়াই ফুটবলের আর্কাইভে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। ১৯৮২ তে হাঙ্গেরি ১০-১ গোলে চূর্ণ করে এল সালভাদোরকে। তারপর ৪৪ বছরের অপেক্ষা। ফের ১০ গোলের ম্যাচ দেখল বিশ্বকাপ।
সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে দু’দলই। তাই এই ম্যাচের মোটিভেশন নিয়ে আশঙ্কা ছিলই। চাপ, টেনশনের বালাই নেই। খেলা জমবে তো? সন্দেহ হাওয়ায় উড়িয়ে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড়। ব্যক্তিগত মত, সেভাবে প্রত্যাশা না থাকাতেই এই পারফরম্যান্স। বিরতির পর অবিশ্বাস্য লড়াই এমবাপে, ওলিসেদের। ইংল্যান্ডের চতুর্থ ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করল বুকায়ো সাকা। এর আগে জিওফ হার্স্ট (১৯৬৬), গ্যারি লিনেকার (১৯৮৬) ও হ্যারি কেন (২০১৮) এই কৃতিত্বের সাক্ষী। যাই হোক, প্রথমার্ধেই চার গোল ইংল্যান্ডের। ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটেই নিখুঁত ইনস্যুইং শটে জাল কাঁপাল ডেকলান রাইস (১-০)। ফ্রান্স রক্ষণ ওকে অ্যালাও করে ডুবল। ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে সেকেন্ড পোস্টে বল রাখল কনসা (২-০)। বিরতির আগে ১০ মিনিটের স্পেলে সাকার জোড়া গোল। ঠান্ডা মাথায় কীভাবে ফিনিশ করতে হয় তা শিক্ষার্থীদের দেখা উচিত। ডাগ-আউটে দেশঁর মুখ দেখে তখন মায়া হচ্ছিল। কোচের বিদায়ী ম্যাচে ফরাসি রক্ষণ এত আলগা কেন? কিন্তু ভুল ভাঙল বিরতির পর। এমবাপেরা খোলস ছেড়ে বেরতেই ইংল্যান্ডের কাঁপুনি শুরু। ওলিসে, এমবাপে, বার্কোলাদের ২০ মিনিটের ঝড়ে টুচেলের দুর্গ তছনচ। ব্যবধান ৪-৩। এমবাপের জোড়া গোল ছাড়া জাল কাঁপাল বার্কোলা। এরপমধ্যে এমবাপের দ্বিতীয় গোলের মুভমেন্ট অন্যতম সেরা। বাঁ পায়ের ক্লাসিক ফিনিশ। সেই সুবাদে চলতি আসরে ১০টি লক্ষ্যভেদ সেরে ফেলল কিলিয়ান। ২০১৮ বিশ্বকাপে এমবাপে ছিল উদীয়মান তারকা। চার বছর আগে দেশকে ফাইনালে তুলেও ট্র্যাজিক হিরো হয়েই থামতে হয়েছিল তাঁকে। এবার ভেবেছিলাম, এই বিশ্বকাপ এমবাপের। শুরুটাও করেছিল সেভাবেই। তবে সেমি-ফাইনালে হারটা ওকে ধাক্কা দিয়েছিল। শনিবার অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে চেনা এমবাপেকেই দেখলাম।
এরপর ওলিসে সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে সমতায় ফিরতেই পারত ফ্রান্স। শেষ ১০ মিনিট রুদ্ধশ্বাস নাটক। সাকার পেনাল্টি গোলের রেশ না মেলাতেই জাল কাঁপাল ডেম্বেলে। এই গোল দেশঁর আক্ষেপ বাড়াবে। স্পেনের বিরুদ্ধে ডেম্বেলেকে যে চোখেই পড়েনি। ওলিসেও এদিন চেনা ফর্মে। শেষ চারে ফুয়েন্তে তো বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন ওকে। এদিনের পর চলতি বিশ্বকাপে ওলিসের অ্যাসিস্টের সংখ্যা ৭। গত ছয় দশকে এমন কৃতিত্ব কারও নেই। যাই হোক, সংযোজিত সময়ের শেষ মুহূর্তে জ্বলে উঠল বেলিংহ্যাম। লক্ষ্যভেদের সঙ্গেই কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে টপকে গেল ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ৬ গোল করেছিলেন লিনেকার। এবার বেলিংহ্যামের জাল কাঁপানোর সংখ্যা ৭। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ফুটবলারদের মধ্যে যা সর্বাধিক।