ম্যাঞ্চেস্টার: অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির প্রথম তিন টেস্টে দেখা গিয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রতিটা ম্যাচই গড়িয়েছে পঞ্চম দিনের শেষ সেশন পর্যন্ত। ওল্ড ট্রাফোর্ডে চতুর্থ টেস্টও সেই ধারা মেনেই শুরু হল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম সেশনে উইকেটহীন থাকল ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে ইংল্যান্ড পকেটে পুরল তিন উইকেট। দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও যশস্বী জয়সওয়াল তো ফিরলেনই। বল না খেলে ‘জাজমেন্ট’ দিয়ে আউট হলেন ক্যাপ্টেন শুভমান গিলও। তৃতীয় সেশনে সাই সুদর্শন ও ঋষভ পন্থের জুটি ভরসা জোগাচ্ছিল। দু’জনে যোগ করেন ৭২। কিন্তু রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে ডান পায়ে চোট পান পন্থ। যন্ত্রণাকাতর তারকাকে মাঠ ছাড়তে হয় মোবাইল অ্যাম্বুলেন্সে চেপে। তাঁর রিটায়ার্ড হার্ট দলের কাছে রীতিমতো অশনি সঙ্কেত। চিন্তা বাড়িয়ে শেষবেলায় আউট হলেন সুদর্শনও। প্রথম দিনের শেষে ভারতের স্কোর ৪ উইকেটে ২৬৪। ক্রিজে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গী দলে ফেরা শার্দূল ঠাকুর। শেষবেলার চাপ সামলে অপাতত পঞ্চম উইকেট জুটিতে তাঁদের অবদান ২৯ রান।
চলতি সিরিজে টস হারাটা গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে গিলের। ব্যতিক্রম হল না এদিনও। মেঘলা পরিবেশে ইংল্যান্ড যে ভারতকেই ব্যাট করতে পাঠাবে তা বোঝাই যাচ্ছিল। হলও তাই। তবে ক্রিস ওকস, জোফ্রা আর্চাররা নতুন বলে সুবিধা করতে পারেননি। যশস্বীকে শুরুতে অপেক্ষাকৃত কম জমাট লাগছিল। প্রথম ওভারেই বার দুয়েক খোঁচা দিয়ে রক্ষা পান তিনি। লর্ডসে দুই ইনিংসেই আর্চারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন বাঁ-হাতি ওপেনার। এদিন তাই যশস্বীকে রীতিমতো আগলে রাখলেন রাহুল। নিজেই আর্চারের প্রথম স্পেলের ২৫টা বল খেললেন। যশস্বীকে পাঁচটার বেশি বলই মোকাবিলা করতে দিলেন না।
লাঞ্চের সময় ভারতের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৭৮। বড় রানের ভিত ততক্ষণে গড়ে ফেলেছেন দুই ওপেনার। রাহুলকে জমাট দেখাচ্ছিল। ভারতের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে হাজার রান পূর্ণ করে ফেললেন তিনি। কিন্তু লাঞ্চের পর ক্রিস ওকসের বলে খোঁচা দিয়ে তৃতীয় স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান আগে আউট হন কেএল। যশস্বী অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই টেস্টে অষ্টম অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। সকাল থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। চরিত্রবিরোধী ইনিংসে বড় রানের লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেখাচ্ছিল তাঁকে। কিন্তু ড্রিঙ্কসের ঠিক আগে বাঁ-হাতি স্পিনার লিয়াম ডসনের শিকারে পরিণত হন। তাঁর ব্যাট ছুঁয়ে ক্যাচ যায় প্রথম স্লিপে। ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর এটাই ডসনের প্রথম টেস্ট উইকেট। প্রথম তিন টেস্টে খেলা অফস্পিনার শোয়েব বশিরের থেকে অনেক কার্যকরী দেখাল তাঁকে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতীয় ইনিংসে মোক্ষম আঘাত হানেন বেন স্টোকস। ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেনের ডেলিভারিতে কোনও শট না খেলে এলবিডব্লু হন গিল। এজবাস্টন টেস্টের পর টানা তিন ইনিংসে ব্যর্থ তিনি। ১৬, ৬ ও ১২— স্কোরগুলো উদ্বেগে রাখছে। হলটা কী ভারতীয় ক্রিকেটের রাজপুত্রের? গত কয়েক ম্যাচে আউট ফিল্ডে অহেতুক আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে ব্যাটিংয়ের ফোকাসটাই যেন নড়ে গিয়েছে তাঁর। সবার তো বিরাট কোহলি হওয়ার দরকার নেই!
এদিন ভারতীয় দলে তিনটি পরিবর্তন হয়। করুণ নায়ারের জায়গায় দলে আসেন সুদর্শন। এছাড়া হাঁটুর চোটের জন্য পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে যাওয়া নীতীশ রেড্ডির পরিবর্তে সুযোগ পান অলরাউন্ডার শার্দূল ঠাকুর। কুঁচকির চোটে এই টেস্টে নেই আকাশদীপ। তাঁর জায়গায় ভারতের ৩১৮তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট অভিষেক হল অংশুল কম্বোজের। তরুণ পেসারের হাতে টেস্ট ক্যাপ তুলে দেন দীপ দাশগুপ্ত।