সিডনি: ট্রাভিস হেডের নামের পাশে তিনটি সেঞ্চুরি-সহ ৬২৯ রান। মিচেল স্টার্কের ঝুলিতে ৩১টি উইকেট। আর কিপিং গ্লাভস হাতে অ্যালেক্স কেরির শিকার সংখ্যা ২৮। সদ্য সমাপ্ত পাঁচ টেস্টের অ্যাসেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্যের এই হল আঁখো দেখা হাল। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং— সবেতেই সফরকারী ইংল্যান্ডকে টেক্কা দিয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল অজি বাহিনী। ধরে রাখল ঐতিহ্যের অ্যাসেজ আর্ন। সিডনিতে শেষ ম্যাচে হোমটিমের জয় পাঁচ উইকেটে। চতুর্থ ইনিংসে ১৬০ রানের টার্গেট ৩১.২ ওভারেই টপকে গেল তারা (১৬১-৫)। উসমান খাওয়াজার বিদায়ী টেস্টকে যথার্থ অর্থেই স্মরণীয় করে রাখলেন সতীর্থরা।
সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ জিতেই অ্যাসেজ পকেটে পুরে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে কিউরেটরের ভুলে মাত্র দু’দিনে হেরে চরম লজ্জার মুখে পড়ে ক্যাঙারু বাহিনী। সিডনিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ডব্লুটিসি’র পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল তারা। নতুন সার্কেলে আটটির মধ্যে সাতটি টেস্টে জয়ের সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার পিসিটি এখন ৮৭.৫। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড (৭৭.৭৮) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫.০)। আর ভারত রয়েছে টেবিলের ছয় নম্বরে (৪৮.১৫)।
সিডনি টেস্টের পঞ্চম দিন ৮ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। সেঞ্চুরি পূর্ণ করে আগের দিন অপরাজিত থাকা জ্যাকব বেথেল ১৫৪ রানে আউট হন। তার চার ওভারের মধ্যে দাঁড়ি পড়ে ইংল্যান্ডের চতুর্থ ইনিংসে (৩৪২)। জয়ের জন্য ১৬০ তাড়া করতে নেমে ১২১ রানে ৫ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তখন মনে হয়েছিল ইংল্যান্ড লড়াই করবে। তেমনটা হয়নি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে ৪০ রান তুলে দলের জয় নিশ্চিত করেন অ্যালেক্স কেরি (১৬) এবং ক্যামেরন গ্রিন (২২)। এছাড়া লাবুশানে ৩৭, ওয়েদারাল্ড ৩৪ ও হেড ২৯ রান করেন। জীবনের শেষ ইনিংসে উসমান খাওয়াজা ৬ রানে আউট হন। তবে দলের জয় হয়ে উঠল বিদায়ী টেস্টে তাঁর সেরা উপহার। অন্যদিকে, অ্যাসেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের লজ্জাজনক পরাজয়ে ঘোর সংকটে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালামের ভবিষ্যৎ। তাঁর সাধের বাজবল যে আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়ল ডন ব্র্যাডম্যানের দেশে!