সংবাদদাতা, ইটাহার: সকালে মাঠে বাবাকে খাবার দিতে গিয়েছিলেন বাড়ির বড় ছেলে। রাতে বাড়ির অদূরে প্রতিবেশীর ভুট্টা খেত থেকে উদ্ধার হল ইঞ্জিনিয়ারের নিথর দেহ। মুখের ভিতরে কাদামাটি ভর্তি থাকায় বাড়ছে রহস্য। শনিবার রাতে মেধাবী ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় ইটাহারের ছয়ঘরা অঞ্চলের শান্তিপুর গ্রামে। রবিবার যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিজনের হাতে তুলে দেয় পুলিস। তবে মেধাবীর মৃত্যু কেন্দ্র করে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদেহের পাশ থেকে একটি মোবাইল ও একটি ইনজেকশন উদ্ধার হয়েছে।
মৃতের নাম অনন্তকুমার মণ্ডল (২৭)। বাড়িতে বাবা, মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন অনন্ত। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট থেকে অনন্ত রায়গঞ্জে মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছেন। বর্ধমানের একটি কলেজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে বিটেক পাশ করে রায়গঞ্জে মামার বাড়িতে থাকতেন অনন্ত। সেখানে থেকেই চাকরির চেষ্টা করছিলেন। প্রায় দু’মাস আগে অনন্ত ইটাহারের শান্তিপুরের বাড়িতে আসেন।
পরিজনদের সূত্রে জানা গিয়েছে,শনিবার সকালে বাবা অর্জুন মণ্ডলকে খাবার দিতে জমিতে গিয়েছিলেন অনন্ত। বাড়ি যাচ্ছি বলে চলে আসেন তিনি। তারপর অর্জুনবাবু বাড়ি ফিরে দেখেন দুপুর গড়িয়ে গেলেও ছেলে বাড়ি ফেরেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিজনেরা দিনভর অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও অনন্তর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনকী কয়েকবার ফোন করা হলেও ধরেননি অনন্ত। থানাতেও ছেলের নিখোঁজের মৌখিক অভিযোগ জানান অনন্তর বাবা। এরপর শনিবার রাত ১০ টা নাগাদ বাড়ির অদূরে প্রতিবেশীর ভুট্টা খেতে অনন্তর মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। দেহের পাশেই ছিল তাঁর মোবাইল।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাস সমাজদার ও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সাক্রাতু মহলদার জানান, ভুট্টা খেতে পড়েছিল অনন্তর দেহ। তাঁর মুখের ভিতরে কাদামাটি ভর্তি ছিল।
ইটাহার থানার পুলিস দেহ উদ্ধার করে ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক অনন্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিক্যালের মর্গে পাঠানো হয় দেহ। অনন্তর বাবা বলেন, ছেলেকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ছিল। চাকরির জন্য চেষ্টা করছিল। কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না। ওর মা ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে।
একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ইটাহারের পুলিস