নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ডাওহিলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র সপ্তনীল চট্টোপাধ্যায়ের (২৩) অস্বাভাবিক মৃত্যুতে খুনের মামলা দায়ের হল। মঙ্গলবার কার্শিয়াং থানার পুলিস এই মামলা রুজু করেছে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও খুনের রহস্য ভেদ করতে পারেনি পুলিস। তারা ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। পুলিসের একাংশের অনুমান, হোম স্টের উন্মুক্ত ব্যালকনি থেকে সূর্যোদয় দেখতে গিয়ে পা পিছলে নীচে পড়ে যান ওই ছাত্র। আজ, বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবে ফরেন্সিক টিম।
সপ্তনীলের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাওড়া থেকে সোমবার বিকেলে শিলিগুড়িতে আসেন তাঁর বাবা ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়। তিনি কার্শিয়াং থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে পাহাড়ে বেড়াতে এসে সপ্তনীলের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগপত্রে একথা উল্লেখ করেন তাঁর বাবা। তিনি অভিযোগপত্রে ছেলের পাঁচ বন্ধুর নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (কার্শিয়াং) অভিষেক রায় বলেন, মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে ডাওহিলে একটি হোম স্টে চত্বরে সপ্তনীলের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার বিকেলে দেহ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয় পুলিস। পুলিস সূত্রে খবর, হোম স্টের তিনতলার একটি ঘরে ছিলেন ওই ছাত্র ও তাঁর বন্ধু-বান্ধবীরা। রাতভর তাঁরা গান, গল্প আড্ডায় মাতেন। ভোর পৌনে ৫টা নাগাদ সূর্যোদয় দেখা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ব্যস্ততা শুরু হয়। সেসময় ব্যালকনি থেকে আকাশের দিকে উঁকি দিতে গিয়ে পা পিছলে নীচে পড়ে যান ওই ছাত্র। এনিয়ে পুলিসের একাংশের ধারণা, খুন নয়, দুর্ঘটনাজনিত কারণে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ফোনে সপ্তনীলের বাবা ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় জানান, ছেলে খুবই হাসিখুশি ছিল, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত। ছেলের মৃত্যুতে আমি ওর সঙ্গে থাকা ৫ জনের বিরুদ্ধে কার্শিয়াং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক। যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তার উপযুক্ত শাস্তি হোক, এটাই আমি চাই বলে জানান ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, একজন তরতাজা যুবকের এহেন মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ এলাকার মানুষ। তাঁরা এখন দেহ ফিরে আসার অপেক্ষায়। উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে ডাওহিলে কলকাতার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। দেহ উদ্ধার হয় হোম স্টে চত্বরে। যুবকের বাড়ি হাওড়ায় বাগনানে। বাড়িতে না জানিয়ে চার বান্ধবী ও দুই বন্ধু মিলে কার্শিয়াং বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা। যুবকের মৃত্যুতে ঘনীভূত হয়েছে রয়েছে।