নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দমদম সংশোধানাগারে পাঠানো হল মেমারির হুমায়ুন কবীরকে। সেখানে তার মানসিক চিকিৎসাও করা হবে। বাবা ও মাকে নির্মমভাবে খুন করার পরও হুমায়ুনের কোনও হেলদোল নেই। বিভিন্ন সময় সে আলাদা আলাদা বয়ান দিচ্ছে। কথার মধ্যে বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। দমদম সংশোধানাগারে চিকিৎসার পর তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হয় কি না সেদিকে আধিকারিকরা নজর রেখেছেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও বাবাকে খুনের ঘটনায় অনেক প্রশ্নেরই সে উত্তর ঠিক মতো দেয়নি। নিজের মতো ইংরেজিতে কথা বলে চলছিল। খুনের ঘটনায় তার জড়িত থাকার সমস্ত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সে নিজেও সেকথা স্বীকার করেছে। এছাড়া খুনে ব্যবহার হওয়া ছুরি উদ্ধার হয়েছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, কী কারণে সে বাবা ও মাকে খুন করেছে সেটা জানিয়েছে। তার দাবি, বাবা এবং মা গরিবদের পছন্দ করত না। সেই কারণেই তাঁদের খুন করা হয়েছে। কিন্তু খুনের পরিকল্পনা সে কতদিন আগে করেছিল তার জবাব ঠিকমতো দেয়নি। খুনের পর বাবার বুকে কেন সে মোবাইল রেখে গিয়েছিল সেটাও জানায়নি। দিল্লিতে কাজ ছাড়ার পর সে কেন হিমাচলপ্রদেশ গিয়েছিল তা স্পষ্ট করেনি। বনগাঁয় হামলা করার পরিকল্পনা সে কতদিন আগে করেছিল সেটাও জানায়নি। তিনি আরও বলেন, হুমায়ুন মানসিকভাবে সুস্থ নয়। সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাকে অনেক আগেই মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত ছিল পরিবারের লোকজনদের। পুলিস জানিয়েছে, দমদমসহ সেন্ট্রাল জেলগুলিতে মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হয়। সেই কারণেই তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। জেলের মধ্যে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। অনেকেই সেখানে সুস্থ হয়ে ওঠেন। হুমায়ুনের মানসিক অবস্থা উন্নতি হলে তার কাছে থেকে কয়েকটি বিষয় জানা হতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিস তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে খুনের পুননির্মাণ করেছে। সেই সময়ও সে প্রথম দিকে খুব বেশি সহযোগিতা করেনি। ঘরে ঢুকে চারদিকে ঘুরতে থাকে। কিছুক্ষণ পর সে কীভাবে খুন করেছে তা দেখায়। তা ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও সে আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। কৃতকর্মের জন্য তাকে একবারের জন্য অনুশোচনা করতে দেখেননি তদন্তকারীরা।



