নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: আচমকা ইঞ্জিন বিকল। এরই জেরে জলপাইগুড়ির বেলাকোবা ও রানিনগর স্টেশনের মাঝে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে রইল নিউ আলিপুরদুয়ারগামী পদাতিক এক্সপ্রেস। অবশেষে এনজেপি থেকে নতুন ইঞ্জিন নিয়ে এসে দুপুর ১টা নাগাদ ট্রেন ছাড়ে। দীর্ঘ সময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় চরম ভোগান্তি হয় যাত্রীদের। ওই ট্রেনেই এদিন কলকাতা থেকে ফিরছিলেন কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখন ট্রেন যাত্রা রীতিমতো অনিশ্চয়তা ও যন্ত্রণার যাত্রা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকাল, প্রিমিয়াম তৎকাল করে ভাড়া বাড়াচ্ছে রেল। কিন্তু পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে লবডঙ্কা।
রবিবাবুর তোপ, এদিন প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ট্রেন মাঝপথে দাঁড়িয়েছিল। ট্রেনের বাথরুমে জল নেই। খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। পানীয় জল নেই। দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় যাত্রীদের। অথচ, এতক্ষণ যে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকল, তার জন্য যাত্রীদের কাছে গিয়ে রেলের তরফে দুঃখপ্রকাশ পর্যন্ত করলেন না কেউই।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা জানান, ১২৩৭৭ আপ পদাতিক এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে ঘণ্টা দু’য়েক জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে ঢোকার আগে বেলাকোবা ও রানিনগরের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে এনজেপি থেকে নতুন ইঞ্জিন নিয়ে এসে ট্রেনটিকে রওনা করানো হয়। এর জেরে যাত্রীদের সমস্যা হওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষ দুঃখিত।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, এদিন মোটামুটি সঠিক সময়ে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ঢোকে নিউ আলিপুরদুয়ারগামী পদাতিক এক্সপ্রেস। কিন্তু বেলাকোবা পার করেই ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ পর রেলের ইঞ্জিনিয়াররা আসেন। তাঁরা ইঞ্জিনের গোলযোগ মেরামতের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় শেষে এনজেপি থেকে অন্য ইঞ্জিন নিয়ে এসে ট্রেনটি রওনা করানো হয়। দীর্ঘসময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় জল, খাবার না পেয়ে ট্রেনযাত্রীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, এদিন কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেন অস্বাভাবিক দেরি করায় যোগ দিতে পারিনি।