Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করুন, পুলিসকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসা পর্বে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিসকে নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সমাবেশ মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া আইন আছে রাজ্যে।

সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করুন, পুলিসকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসা পর্বে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিসকে নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সমাবেশ মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া আইন আছে রাজ্যে। আইন থাকলেও, তা প্রয়োগ করি না, কিন্তু কেন? এবার থেকে প্রয়োগ করতেই হবে। সরকারি সম্পত্তি পোড়ানো বা ভাঙচুর করা কাউকে রেওয়াত করা যাবে না! এই পর্বেই জঙ্গিপুর মহকুমায় অশান্তির ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করল রাজ্য পুলিস। এদিন সরকারি ভাবে এ সংক্রান্ত ঘোষণায় জানা গিয়েছে, ১০ সদস্যের ‘সিট’এর নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিস সুপার (আইবি) শান্তনু চৌধুরী। এছাড়া দুজন ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার সহ রাজ্য পুলিসের এসটিএফ, সিআইডি এবং রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তরের একাধিক দুঁদে অফিসার রয়েছেন। প্রতিটি ঘটনার পৃথক পৃথকভাবে তদন্ত করবে সিট। অপরদিকে মুর্শিদাবাদের হাঙ্গামার ঘটনার  ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে এদিন দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ, তার শুনানি। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অপর একটি মামলা হয়েছে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চে। এরই পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকায় জেলাশাসক ত্রাণ শিবির খোলার অনুমতি দিচ্ছেন না, হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করুক। এই মর্মে আরও একটি মামলা হয়েছে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে।    

Advertisement

সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে গত বৃহম্পতিবার থেকে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে রঘুনাথগঞ্জ, সূতি, সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানের বেশ কিছু এলাকায়। এই অশান্তির আবহে তিনজনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে ধুলিয়ানের জাফরাবাদে জোড়া খুনের ঘটনার তদন্তে আগেই সিট গঠন করা হয়। এই খুনের জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাঙ্গামার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যে বা যারা জড়িত আছে, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন দক্ষিণবঙ্গ এডিজি সুপ্রতিম সরকার। তিনি সামশেরগঞ্জ থানায় বসে গোটা পরিস্থিতির উপর নজরদারি করছেন। অশান্তির ঘটনায় লাগাতার ধরপাকড় চলছে বলেই জানিয়েছে পুলিস। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায়। এই নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১।  
এদিকে, এলাকায় কান পাতলেই স্থানীয় পুলিসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলছে মানুষ। রাজ্যের এডিজি পদমর্যাদার অফিসারদের সামনেও পুলিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বাসিন্দারা। জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার ও থানার ওসির বিরুদ্ধেও মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে মানুষ। বেতবোনা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কয়েক ঘন্টা ধরে যখন তাণ্ডব চলেছে, তখন বারবার পুলিসকে ফোন করেও, কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। জাফরাবাদের বাসিন্দাদেরও একই বক্তব্য। কেউ কেউ বলেন, বাবা ও ছেলেকে যখন নৃশংসভাবে কোপানো হচ্ছিল, তখন বারবার পুলিসকে ডেকেও পাওয়া যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ