Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরে নিকাশি খালের পাড় দখল সামাজিক সমস্যা: সেচমন্ত্রী

মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিতে কলকাতা শহর এবং তার আশপাশের এলাকার নিকাশি ব্যাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কলকাতায় জল জমা ঠেকাতে মূলত নির্ভর করতে হয় বেলেঘাটা খাল, মণিখালি খাল, চড়িয়াল খালের মতো কয়েকটি নিকাশি খালের উপর।

শহরে নিকাশি খালের পাড় দখল সামাজিক সমস্যা: সেচমন্ত্রী
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিতে কলকাতা শহর এবং তার আশপাশের এলাকার নিকাশি ব্যাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কলকাতায় জল জমা ঠেকাতে মূলত নির্ভর করতে হয় বেলেঘাটা খাল, মণিখালি খাল, চড়িয়াল খালের মতো কয়েকটি নিকাশি খালের উপর। প্রায় ২৬৪ কিমি দৈর্ঘ্যের এই সমস্ত খালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য সেচদপ্তর। মূলত ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই খালগুলি প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের জল নিষ্কাশন করতে পারে। এখানেই প্রশ্ন, তাহলে কি মঙ্গলবারের মতো মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি হলে ফের একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে শহরবাসীকে? কারণ, বর্তমানে নতুন করে খাল কাটা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে খালগুলির সংস্কারই একমাত্র উপায়। কাজটি অনেকাংশেই তাঁর দপ্তর করেছে বলে দাবি সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার। তবে খালের দু-ধারের জবরদখলকারীর জন্য যে সমস্যা হচ্ছে, সেকথাও উড়িয়ে দেননি তিনি। একই সঙ্গে এটিকে সামাজিক সমস্যা বলেই তিনি দেখছেন। বুধবার জলসম্পদ ভবনে জবরদখল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খাল ড্রেজিংয়ের সময় আস্ত খাট, গদি, আসবাবপত্র পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে! এটি আসলে একটি সামাজিক সমস্যা। সচেতনতা বৃদ্ধি করে এর মোকাবিলা করতে হবে।’ 

Advertisement

এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২২৪ কোটি টাকায় ২৩১ কিমি খাল সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া এই মুহূর্তে ৮৮ কিমি খাল সংস্কারের কাজ চলছে। এজন্য খরচ হচ্ছে ৫২ কোটি টাকা।এদিন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মণীশ জৈনসহ অন্যান্য পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মানসবাবু। সেখানেই তিনি জানান, যেহেতু খাল কাটা সম্ভব নয়, সেই কারণেই জল নিষ্কাশনের জন্য পাম্পিং স্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বর্তমানে এই খালব্যবস্থার মধ্যে মোট ৯ হাজার কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি প্রধান পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। বাগজোলা খালের আউটফলে কুলটি পাম্প হাউজের ২৪০০ কিউসেক ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। প্রফুল্লকানন এলাকায় ২০০ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন পাম্পিং স্টেশন তৈরি হবে। এছাড়াও গণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে চড়িয়াল-গঙ্গা সংযোগস্থলে ১০৬০ কিউসেক, মহিষঘাট সেতুর কাছে চড়িয়াল মূল খালের মাঝামাঝি ১৫৯০ কিউসেক এবং চৌবাগায় টিপি খালে ৪০০ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। 
এছাড়া গঙ্গা ভাঙন-বন্যা নিয়ন্ত্রণে ঠেকাতে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে এদিন ফের একবার সরব হন রা঩জ্যের সেচমন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ