নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বারংবার নোটিসের পরেও দখলদারের একাংশের হুঁশ ফিরছে না। নোটিস অগ্রাহ্য করেই দখলদাররা সরকারি জমি আঁকড়ে বসে রয়েছেন। ফলে সাঁইথিয়ায় রেল ওভারব্রিজের কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় পুরসভা, প্রশাসন সহ রেলের কর্তারা ইতিমধ্যে বৈঠকও সেরেছেন। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়েছে জমি দখলমুক্ত করতে পুরসভার তরফে ফের একবার নোটিস জারি করা হবে। এবার নোটিসে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। সেই নোটিসের পরেও দখলদাররা না সরলে প্রশাসন উচ্ছেদের পথে হাঁটবে। ওভারব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে র্যাম্পের জন্য নতুন করে বেশকিছু পরিমাণ জমি কেনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সমস্ত নিয়ম মেনে ওভারব্রিজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত কেনা হবে।
সিউড়ির মহকুমা শাসক সুপ্রতীক সিনহা বলেন, সাঁইথিয়া ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সাঁইথিয়ার উপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ গিয়েছে। জনবসতিও বাড়ছে। সবদিক মাথায় রেখেই ভবিষ্যৎ ভাবনায় ওভারব্রিজ তৈরির কাজ চলছে। এই কাজের জন্য বেশকিছু পরিমাণ জমি কেনার প্রয়োজন রয়েছে। দ্রুত তা কেনা হবে। এছাড়াও দখল হয়ে থাকা জমিও পুনরুদ্ধার করা হবে।
প্রায় এক বছর আগে সাঁইথিয়ায় রেল ওভারব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। ব্রিজের একটা অংশে জবরদখল শুরুতেই প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছিল। সমস্যা সমাধানে নোটিসও করা হয়েছে। নোটিসে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০টি পরিবার জমি দখলমুক্ত করেছিল। যদিও প্রায় সাতটি পরিবার এখনও সরতে নারাজ। ফলে ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কর্তারা সমস্যা সমাধানে তড়িঘড়ি বৈঠক করেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে নতুন করে ওই সাতটি পরিবারকে ফের নোটিস পাঠানো হবে। তাতেও কাজ না হলে আগামীতে জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের তরফে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
ওভারব্রিজের উত্তরদিকে র্যাম্প তৈরির জন্য বেশকিছু পরিমাণ জমি কেনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে দ্রুত প্রশাসনিক আধিকারিকরা বৈঠকে বসতে চলেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সাঁইথিয়ায় বৈঠক করা হবে। সেখানে পুরসভার পাশাপাশি, রেল, পুলিস সহ একাধিক দপ্তরের পদস্থ কর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও আগামী ৪ তারিখ যৌথ পরিদর্শনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে।
রেল ওভারব্রিজের একদিকে রয়েছে সাঁইথিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনে ওই স্কুল ভবনের একটা অংশ ভাঙা পড়ার কথা ছিল। ঘটনায় স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠনে ব্যাঘাত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিল। পরিশেষে প্রশাসনের তরফে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্কুলের দিকে ওভারব্রিজ নির্মাণ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হবে।