Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাতিল টিভি-ফ্রিজ বাড়ি থেকে নিয়ে যাবেন কর্মীরা, জমা দেওয়া যাবে পোস্ট অফিসেও!

বাতিল টিভি-ফ্রিজ বাড়ি থেকে নিয়ে যাবেন কর্মীরা, জমা দেওয়া যাবে পোস্ট অফিসেও!
  • ১৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বিকল মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা অকেজো হয়ে যাওয়া টিভি-ফ্রিজ—একসময় প্রতিদিনের সঙ্গী বৈদ্যুতিন সামগ্রীগুলি যখন বাতিল হয়ে যায়, তখন সেগুলি নিয়ে মাথাব্যথার অন্ত থাকে না! কোথায় রাখা হবে এসব বাতিল জিনিসপত্র? ‘জঞ্জালে’ পরিণত হওয়া যন্ত্রগুলি যাতে ঘরের জায়গা দখল করে না রাখে, তার জন্য অনেকে সেসব ডাস্টবিনে ফেলে দেন বা বিক্রি করে দেন ওজন দরে। এই ধরনের জিনিসপত্রের সদগতি করতে এবার এগিয়ে আসছে ডাক বিভাগ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ এসব বাতিল যন্ত্রপাতি পোস্ট অফিসে জমা করার সুযোগ পাবেন। অথবা কেউ ফোন করলে বাড়ি থেকে সেই যন্ত্র নিয়ে যাবেন ডাককর্মীরা। বিনিময়ে মিলেত পারে টাকা বা অন্য কোনও সুবিধা। ই-বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ভার নিতে চলেছে ডাক বিভাগ।

Advertisement

পরিবেশ রক্ষায় অন্যতম প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে ই-বর্জ্য। বিষয়টি স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও এনিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের গ্লোবাল ই-ওয়েস্ট রিপোর্ট মনিটরিং বলছে, ভারতে বছরে প্রায় ৪১৪ কোটি টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়, যার ৯০ শতাংশই চলে যায় অসংগঠিত ক্ষেত্রে। সেখানে বহু ক্ষেত্রে সেগুলির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হয় না। ফলে পরিবেশ দূষণ বাড়ে। ই-বর্জ্য কাজে লাগিয়ে তেমন কোনও অর্থনৈতিক উন্নতিও হয় না। এদিকে, চিঠি বিলি বা ডাকটিকিট বিক্রির মতো কাজগুলির গুরুত্ব অনেক  কমে গিয়েছে এখন। তাই বিকল্প আয়ের সন্ধান চালাচ্ছে ডাকঘর। সেই পরিকল্পনারই অন্যতম অঙ্গ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ডাক বিভাগের কর্তাদের বক্তব্য, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য প্রেরণের যে বিশাল পরিকাঠামো তাদের আছে, তাকে কাজে লাগিয়েই এই পরিষেবা শুরু করতে পারে তারা। কিন্তু ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনার দক্ষতা তাদের নেই। নেই আধুনিক প্রযুক্তিও। এমনকী, কোন সংস্থাগুলি ই-বর্জ্য নেয় এবং সেগুলি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে সাহায্য করে, সে বিষয়ে সুষ্ঠু ধারণা নেই তাদের। তাহলে কাজটি কীভাবে সম্ভব? এক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে হাত মেলাতে চাইছে ডাক বিভাগ। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দপ্তরের কর্তারা বলছেন, ‘আমরা এক্ষেত্রে পরিষেবা চালুর জন্য জায়গা দিতে পারি। লজিস্টিকস অর্থাৎ পণ্য পরিবহণ ও মজুতে সাহায্য করতে পারে। আর্থিক লেনদেনেও সাহায্য করা যেতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর বাকি কাজগুলি করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে স্টার্ট-আপ বা কোনও বেসরকারি সংস্থাকে।’ তাঁদের বক্তব্য, যদি সাধারণ মানুষের বাড়ি থেকে পার্সেল বা অন্য কোনও পণ্য ডাক বিভাগের কর্মীরা সংগ্রহ করতে পারেন, তাহলে ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা কঠিন কিছু নয়। পোস্ট অফিসে এসে ই-বর্জ্য জমা করার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ