নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘প্রতারণা, জালিয়াতি, সাইবারের মতো ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ বা অর্থনৈতিক অপরাধে জোর দিতে গিয়ে ডাকাতি, খুন, ধর্ষণের মতো ট্রাডিশনাল ক্রাইম বা প্রথাগত অপরাধকে অবহেলা করা যাবে না।’ সোমবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে কলকাতার সিপি হিসাবে প্রথম মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে বাহিনীকে এই বার্তা দিলেন সুপ্রতিম সরকার।
কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে সিপি বলেছেন, ‘সাধারণত, অর্থনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। নাগরিক সমাজে এর প্রভাব তেমনভাবে পড়ে না। কিন্তু শহরের বুকে একটা খুন, ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটে গেলে, তার প্রভাব অত্যন্ত সদূরপ্রসারী হয়ে থাকে। এর অভিঘাত সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে।’ সাম্প্রতিককালে আর জি করের ঘটনা যার হাতে গরম উদাহরণ।
বিধানসভা ভোটের মুখে সিপি হিসাবে কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিটি মিটিংয়ে তিনি নিয়ম করে একটাই কথা বলে চলেছেন, ‘থানায় অভিযোগ জানাতে এলে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। দিনের ব্যস্ত সময়ে রাজপথে পুলিশের উপস্থিতি যাতে আমজনতার নজরে আসে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। এলাকা নিয়ে দায় ঠেলাঠেলি করা যাবে না। বিশেষ করে, রাস্তায় লালগাড়ির (ওসিদের গাড়ির কথা বলতে চেয়েছেন সিপি) টাহলদাঁড়ি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন সিপি।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে মিনিট দশেকের প্রথম বৈঠকে সিপি শহরের ট্রাফিকের হাল নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। এমনকি পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিনি ট্রাফিক পুলিশকে ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এদিনের বৈঠকে সিপি ট্রাফিক পুলিশের প্রশংসা করে বলেছেন, এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে। তবে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বা ‘হল্লা ডিউটি’তে পুলিশকর্মীদের অনুপস্থিতি এড়ানোর পাশাপাশি সঠিক সময়ে রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি থানা, ফাঁড়ি, বারাকের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সেদিকে সবাইকে নজর দিতে বলা হয়েছে।