‘বর্তমান’-এর মুখোমুখি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল
‘বর্তমান’-এর মুখোমুখি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল
প্রশ্ন: চাষিদের ফসলের সঠিক দাম নিশ্চিত করতে এবং ফড়েদের দৌরাত্ম্য রুখতে সরকারের কী পরিকল্পনা?
মন্ত্রী: সরকার নতুন এসেছে। তাই একটু সময় লাগবে। কৃষকদের আয় বাড়াতে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছি। ধান-আলুর পাশাপাশি বাদাম, ভুট্টা, ডাল ও সুগন্ধি চালের মতো লাভজনক বিকল্প চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বাজারদর যাতে সরকারি সহায়ক মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে সেই চেষ্টা চলছে।
প্রশ্ন: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে?
মন্ত্রী: সারের কালোবাজারি রুখতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন চাষিরা সরাসরি জমির কাগজ দিয়ে কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মাত্র ৪শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। কৃষি যন্ত্রপাতির জন্যও লোন মিলবে।
প্রশ্ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ফসলের বিমা বা ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত পৌঁছে দিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
মন্ত্রী: বিগত সরকারের আমলে বিমা সংক্রান্ত দুর্নীতি ও ভুয়ো নাম বাদ দিয়ে স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা যাতে বিমা ও ক্ষতিপূরণের টাকা পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রশ্ন: উন্নত পদ্ধতিতে চাষের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কী করছে?
মন্ত্রী: টালিগঞ্জের মতো আধুনিক মাটি ও সার পরীক্ষাকেন্দ্র প্রতিটি এলাকার কাছাকাছি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কীটনাশক স্প্রে করার ক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার ও যন্ত্রের সাহায্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশ্ন: ভূগর্ভস্থ জলের সংকট মোকাবিলা এবং শুষ্ক অঞ্চলে সেচের সুবিধা বাড়াতে সরকার কী ভাবছে?
মন্ত্রী: সেচের উন্নতির জন্য সৌরশক্তি চালিত সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি জল সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ভিবি জি-রামজি প্রকল্পে পুকুর খনন, জলাশয় সংস্কার করে গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে।
প্রশ্ন: নকল বীজ ও সারের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে কৃষিদপ্তর কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
মন্ত্রী: কালোবাজারি ও বীজ বদল রুখতে নজরদারি চলছে। এমআরপির চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পেলেই সেই বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কৃষি বিজ্ঞানীরা এমন উন্নত বীজ এনেছেন, যা কম সার ও জলেও ভাল ফলন দেবে। কৃষকদের দ্রুত যান্ত্রিক পদ্ধতিতে অভ্যস্ত করা হচ্ছে।
প্রশ্ন: আলু বা টোম্যাটোর ভাল ফলন হলে চাষিরা তা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। হিমঘর ও ফুড প্রসেসিং শিল্প বাড়াতে কী কাজ হচ্ছে?
মন্ত্রী: আমাদের এখানে ফুড প্রসেসিংয়ের উপযোগী আলু চাষ হয় না। সবাই একই জাতের আলু চাষ করেন। তাই হিমঘরের সংখ্যা এখনই বাড়িয়ে লাভ নেই। বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকতে হবে। চাষিরা যাতে সুগন্ধি ধান চাষে আগ্রহী হন তারজন্য আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে আগ্রহী করতে সরকার কী ভাবছে?
মন্ত্রী: যুবসমাজ আয়ের জন্য ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে। তাদের ফিরিয়ে আনার ও চাষিদের আয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাজেটের বরাদ্দ টাকায় চাষের জল, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ক্ষুদ্র সেচ ও চেকড্যাম তৈরি সহ সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নে এই টাকা খরচ হবে।
প্রশ্ন: ময়ূরেশ্বরে ক্যানেলের জল মেলে না। সেচের জল সুনিশ্চিত করতে কী ভাবছেন?
মন্ত্রী: মজে যাওয়া ক্যানেলগুলি সংস্কার করা হবে। ময়ূরেশ্বর এলাকায় আগামী আগস্ট মাস থেকে প্রচুর সৌরচালিত পাম্পসেট বসানো শুরু হবে। চাষিরা আবেদন করলে এই সুবিধা পাবেন।
প্রশ্ন: দপ্তরে কর্মীসংকট মেটাতে কী করা হচ্ছে?
মন্ত্রী: দপ্তরে কর্মীর অভাব রয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলারা এনিয়ে মাথা ঘামাননি। এই ঘাটতি মেটাতে আগামী বছর প্রচুর নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে।
সাক্ষাৎকার: বলরাম দত্তবণিক