সৌরভ ভট্টাচার্য , তেহট্ট:
সৌরভ ভট্টাচার্য , তেহট্ট:
নদীয়ার তেহট্টে ইলশামারি গ্রামের কালীপুজো এবার ৭৭তম বর্ষে পা দিল। এই সর্বজনীন পুজো এলাকায় ‘বারো ভুঁইয়াদের পুজো’ নামেও পরিচিত। ১৯৪৭সালে স্বাধীনতা ও দেশভাগের সময় পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ থেকে ১২টি পরিবার এই গ্রামে এসে বসবাস শুরু করে। তাঁদেরই গ্রামের লোকজন ‘বারো ভুঁইয়া’ বলতেন। এই ১২টি পরিবারই গ্রামে পুজো শুরু করে।
সেসময় এই এলাকা জঙ্গলে ঘেরা ছিল। হিংস্র জন্তু রাতে গ্রামে আসাযাওয়া করত। তাই রাতে হিংস্র পশুর হাত থেকে বাঁচতে গ্রামবাসীরা পালা করে পাহারা দিতেন। এরকম কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁরা কালীপুজো শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। এলাকার সেই ১২টি পরিবারের লোকজন কয়েক কিমি দূরের একটি গ্রাম থেকে কালীমূর্তি গড়িয়ে আনেন। জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে সেখানেই পুজো আয়োজন হয়। পুজোর কয়েকরাত জঙ্গলের শুকনো গাছপালা দিয়ে আগুনও জ্বালানো হয়েছিল। তারপর থেকে বসতবাড়ির ধারেকাছে জঙ্গলের পশুদের আর সেভাবে দেখা যায়নি।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা জগদীশ রায় বলেন, আমার যখন দু’বছর বয়স, সেসময় বাবা চিত্তরঞ্জন রায়, গ্রামের নিত্যানন্দ রায়, প্রভাস রায়, বলাই মণ্ডল সহ ১২টি পরিবার মিলে এই পুজো শুরু করেছিলেন। তাঁরা আর কেউ জীবিত নেই। তবে তাঁদের কাছ থেকে শুনেছি, পূর্ববঙ্গে গোপালগঞ্জে ধুমধাম করে কালীপুজো হতো। সেই ধারা বজায় রেখেই ইলশামারি গ্রামে পুজো হয়ে আসছে। প্রথমদিকে ১২টি পরিবার দায়িত্বে থাকলেও এখন এই পুজো সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। গ্রামের শক্তি সংঘ পুজোর দায়িত্বে রয়েছে।
এলাকার অপর বাসিন্দা রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, এটাই এলাকার পুরনো কালীপুজো। এই পুজো সম্পর্কে বাপ-ঠাকুরদার কাছ থেকে অনেক গল্পকথা শুনেছি। এবার পুজো ৭৭বছরে পড়ল। চারদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পুজো ঘিরে গ্রামে মেলা বসে।