Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এমজেএনে সিনিয়রদের দাদাগিরি, পরীক্ষা শেষে মহিলা নিরাপত্তা কর্মীকে ‘হেনস্তা’

এমজেএনে সিনিয়রদের দাদাগিরি, পরীক্ষা শেষে মহিলা নিরাপত্তা কর্মীকে ‘হেনস্তা’
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়রদের দাদাগিরি অব্যাহত। সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন শৌচালয়ে যথেচ্ছ ভাঙচুরের ঘটনার সামনে এসেছে। মঙ্গলবার ছিল দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের শেষ পরীক্ষা। এদিন কলেজের এক মহিলা নিরাপত্তা কর্মীকে সিনিয়দের বিরুদ্ধে হেনস্তার করার অভিযোগ উঠল। ওই মহিলা কর্মী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলে ঢোকার আগে শরীরে তল্লাশির কাজে নিযুক্ত ছিলেন। কলেজের সিনিয়রদের এমন আচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
Advertisement
এর আগে রুমের বাইরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র শৌচালয়ের দিকে গিয়েছে। পরে শৌচালয় ভাঙচুরের বিষয়টি সামনে আসে। ওই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তিনছাত্রের নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ থানায় দায়ের করেছে। এদিন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ওই মহিলা নিরাপত্তা কর্মী দোতলা থেকে নীচতলায় নামার পর তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তখনই তাঁকে হেনস্তাও করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিসকে হস্তক্ষেপও করতে হয়। কলেজের একাংশ সিনিয়ার ছাত্রের পাশাপাশি সেখানে কিছু ছাত্রীও সেসময় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ নির্মলকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন। 
প্রিন্সিপাল বলেন, এদিন পরীক্ষা হলে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ভালোভাবেই পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের বডি সার্চের কাজে নিযুক্ত এক মহিলাকে কিছু ছাত্রছাত্রী ঘিরে ধরে। পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। যারা পরীক্ষা দিয়েছিল এদিন তারা এটা করেনি। অন্যদের একাংশ এটা করেছে। আমি পুরো বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছি। 
গত সপ্তাহে পরীক্ষা চলাকালীন নকল করার অভিযোগ উঠেছিল একাংশ হবু ডাক্তারের বিরুদ্ধে। একজন পরীক্ষার্থীর খাতা বাতিল ও বেশ কয়েকজনের খাতা বদলে দিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে পুরুষ ও মহিলা শৌচালয় ভাঙচুরের ঘটনা সামনে আসে। তারপর পরীক্ষা হলের ভিতরে থাকা এসি’র ডাক্ট পাইপের মধ্যে থেকে নকল উদ্ধার হয়েছিল। পরপর এ ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, হবু চিকিৎসকদের পরীক্ষায় যদি এমন নকলের রমরমা হয়, নকল করার জন্য নিত্যনতুন ফন্দিফিকিরের খোঁজ চলে তাহলে আগামী দিনে চিকিৎসা ব্যবস্থার কি হবে! নকল রোখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্তর থেকেই এজেন্সি মারফত পরীক্ষার্থীদের শরীর তল্লাশির জন্য কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে তাঁদের এক কর্মীকে হেনস্তা করা হল। 
সম্পর্কিত সংবাদ