সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ২০২৩সালেই নাকি সাগরদিঘির সাবিনা বিবির নামে আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হয়েছে। তাই সেখানকার বোখারা-২ পঞ্চায়েতের খাতায় তিনি এখন পাকা বাড়ির মালকিন। কিন্তু বাস্তবে ভাঙাচোরা ঘরের একচিলতে দাওয়ায় রোদ-ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এই স্বামীহারা গরিব মহিলার দিন কাটে। আবাস যোজনার নতুন সমীক্ষা শুরু হতেই এই দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হল। জানা গিয়েছে, এই অসহায় মহিলার জবকার্ড ব্যবহার করে তাঁর আবাস যোজনার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ওই বিধবা মহিলা। এলাকার বাসিন্দারা ঘটনার তদন্ত করে এই দুর্নীতিতে জড়িতদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। বোখারার বাসিন্দা সাবেরা বিবি চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটান। সম্প্রতি আবাস যোজনার নতুন সমীক্ষায় পঞ্চায়েত কর্মীরা তাঁর কুঁড়েঘরে এসে পৌঁছান। পোর্টালে সাবেরা বিবির নাম ও জবকার্ড নম্বর দিতেই দেখা যায়, ২০২৩সালেই তাঁর নামে বরাদ্দ সম্পূর্ণ টাকা উঠে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই টাকায় তৈরি হয়েছে ঝকঝকে পাকা বাড়ি। কিন্তু পুরো ঘটনা জানেনই না প্রকৃত উপভোক্তা সাবেরা বিবি। সেই পাকা ঘরের একটি ইটও তিনি চোখে দেখেননি। সমীক্ষায় আসা কর্মীরা ওই মহিলাকে বলেন, সরকারি খাতায় ঘরপ্রাপক হিসেবে নাম উঠে যাওয়ায় তিনি আর নতুন ঘর পাবেন না। প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হতেই ওই বিধবা মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সুবিচারের আশায় বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমায় ঠকিয়ে কে ঘর নিল, সেটা তদন্ত করে বিচার হোক। এঘটনার কথা জানাজানি হতেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। স্থানীয় বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বের সাফ কথা, একশ্রেণির নেতা গরিব মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে। বিজেপির দাবি, আবাস যোজনায় রাজ্যজুড়ে এমনই দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। দোষীদের অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে।



