Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

এলার ঝড়বৃষ্টি শুচিস্মিতা দেব

এলার ঝড়বৃষ্টি
শুচিস্মিতা দেব
  • ২ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ইক্লোন ‘রেমাল’ আসছে। সাতদিন আগেই জানিয়েছিল হাওয়া-অফিস। স্যাটেলাইট বাতলে দিয়েছিল ঝড়ের দিন, ক্ষণ, মুহূর্ত। আধুনিক পৃথিবীকে বিজ্ঞান দিয়েছে অভয়... কেড়ে নিয়েছে বিস্ময়। নিকুচি করেছে বিস্ময়ের! জানা যাচ্ছে তাই গভর্নমেন্ট সময়মতো মানুষগুলোকে সরিয়ে অতর্কিত সাইক্লোনের হামলা থেকে বাঁচাচ্ছে। আগের মতো পটাপট মানুষ তো আর মরছে না! তবে এবার গরমেই তো মর-মর বঙ্গবাসী। একে লোকসভা ভোটের তপ্ত বাক্যবাণের উত্তাপ। তার উপর উষ্ণায়নের লেলিয়ে দেওয়া ‘লু’... কলকাতা না জয়সলমির বোঝা দায়! এবারের জ্যৈষ্ঠ তাই জ্বালাময়। জিভ বের করা নেড়িকুকুরের মতো হালছাড়া কলকাতাবাসী তাই ঝড়ের পূর্বাভাসে তুমুল উল্লসিত। চলছিল কানাকানি... ফোনাফুনি! আজ মহামান্য অতিথিটি স্থলভাগে পদার্পণ করেছেন রাত ন’টায়। মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে তার নাচন। বঙ্গোপসাগরে কোলে জন্ম নিয়ে তিলে তিলে ঘনীভূত ও নধরটি হয়ে কত্থকের ঘূর্ণিনাচে সুন্দরবনের বুকে আছড়ে পড়ে সোহাগে-আদরে বাঁচাবে কলকাতাবাসীকে। আহা! এলা তাই মহাখুশি।
Advertisement
খুশি নয় এলার একমাত্র সন্তান, নিউইয়র্কবাসী ইলিনা।
—সাবধান মা, ঝড়টা কিন্তু বেশ স্ট্রং।
—ধুর! চিরাচরিত ‘কেস’ তো খাবে সেই বাংলাদেশ। আর পশ্চিমবাংলা পাবে অঝোরধারা বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া। ফাউ হিসাবে দিন তিনেকের শীতল রাতের ঘুম। শুনি অবশ্য সাগরকূলে ক্ষয়ক্ষতি হয়। বেশ বেশিই হয় হয়তো। লোনাজল ঢুকে চাষজমি নষ্ট-টষ্ট করে, ঘরবাড়ি ভাঙে, গোরু-ছাগলের প্রাণ যায়। 
—আমার এক বন্ধুর এনজিও আছে। বলছিল ইভ্যাকুয়েট করা মানুষদেরও খুবই কষ্ট। বন্ধুকে প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠাই। যতটা সাহায্য করা যায় আর কী।
ইলিনার ভ্যানভ্যানানি ভালো লাগছে না এলার। এসব টিভিতে, কাগজে দেখেছে এলাও। তবে সত্যি-মিথ্যে নিজের চোখে তো দেখেনি। টেকনোলজির বাড়বাড়ন্ত আজকাল সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বানিয়ে দিচ্ছে! গলার স্বর নকল করে অপহরণের পণ আদায় করছে। আসল-নকল বোঝা এখন সৃষ্টিকর্তারও অসাধ্য! আর এলা তো চুনোপুঁটি। সে মেয়েকে নস্যাৎ করে বলে, ‘আমরা বাপু বেজায় খুশি... বাপরে! গরমের হাত থেকে তো রেহাই পাব! তুই মিছিমিছি চিন্তা করিস না—।’
এলা ষাট। পুরোপুরি গৃহবধূ। বয়স হয়েছে মানলেও বুড়ি হয়েছে মানে না। বাজারময় যৌবন ধরে রাখার এত হাতিয়ার থাকতে বুড়ি হতে যাবে কোন দুঃখে? সে সাজগোজে আজও সুন্দরী। নির্ঝঞ্ঝাট দো-কার সংসার। বর সুমন বড় চাকরি করত। এখন রিটায়ার্ড। সুমন এলার মতো নিজেকে ‘মেইনটেইন’ করতে পারেনি। রাজ্যের রোগে সত্তরেই নাকাল। নিঃশব্দঘাতক ব্লাডসুগারের হানায় নির্জীব। রোজ রাতে এলা বিছানায় আসার আগেই ঘুমিয়ে কাদা। তবে, কোনও গোপন সংশয় নিয়ে ‘এই বয়সে’ খোলাখুলি চর্চা করার মতো আধুনিকতা এলার প্রজন্ম এখনও অর্জন করে উঠতে পারেনি। ঘনিষ্ঠ বন্ধুমহলে টুকরো-টাকরা রসিকতা ভেসে উঠলেও নির্ভেজাল পরামর্শ দুষ্প্রাপ্য। অধিকাংশরই সিদ্ধান্তে এখন স্বামী-স্ত্রী তারা প্রায় ভাই-বোন। কেউ-কেউ মুচকি হেসে এড়িয়ে যায় প্রসঙ্গটা, হয়তো সংখ্যালঘু বলে মশকরার পাত্রী হওয়ার ভয়েই। যারা সিরিয়াস তারা চুপ। এসব হালকা চটুলতায় ভেসে খেলো হতে বেজায় আপত্তি তাদের। ‘ভালোমেয়ে’র ইমেজ ভেঙে পরিণত বয়সেও বেরনো যে কঠিন, সেটা বোঝা যায় বন্ধুদের জড়তায়।
আজও ফোন হাতে একা রাতের প্রহর জাগছে আনমনা এলা। একা থাকলেই নানা অহেতুক চিন্তা ঝাঁপিয়ে আসে। বরটা তার বড্ড ভোগে। কেমন বুড়ো হয়ে গেল ফট করে। কোথাও যাবে না। ঝগড়া করে খালি। মেজাজ সর্বদা টঙে। যাক গে, বাজে চিন্তা ছেড়ে নিজেকে চাঙ্গা করে তোলে এলা। এই বয়সে অবসাদকে আশকাড়া দিলেই সে হাত-পা ছড়িয়ে তোমাকে পুরো কব্জা করে নেবে। দেখছে তো কলকাতার বুড়োবুড়িদের! ছেলেপুলের জন্য হাহুতাশ, রোগের ভয়ে রুদ্ধশ্বাস, একাকিত্বের কর্মনাশা জড়তার দীর্ঘশ্বাস... মিলেমিশে সর্বনাশ। মাঝখানে রমরমিয়ে ফুলেফেঁপে উঠছে মনোবিদদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স। ঘুম আর নার্ভের ওষুধে চিন্তাভাবনাকে বশ করে, ঢুলঢুলিয়ে সময় পার করছেন সিনিয়র সিটিজেনের দল। এলা এদের খাতায় কিছুতেই নাম লেখাতে চায় না।
এলা দেখল, রাতের আলো-পিছলানো ভেজারাস্তায় জল ছিটকাচ্ছে কণা-কণা। সুমন তো ঘুমিয়ে কাদা। এমন একটা কাব্যিক ঝোড়ো রাতকে পাশ কাটিয়ে কেমন ঘরঘরিয়ে নাক ডাকছে তার। বৃষ্টির বেগ বাড়ছে। আকাশে উড়ছে মেঘ। বাতাসের গতি পথভোলা পথিকের মতো এলোমেলো। আলগা হয়েছে গত দশ দিনব্যাপী প্রাণঘাতী গরমের মরণকামড়। জলোবাতাসে স্নিগ্ধতার আভাস। ভালো লাগছে এলার। তার মন ডাকছে, আয় বৃষ্টি ঝেঁপে...। তার শরীর-মন চাইছে শীতল হতে। ধেয়ে আসুক তুমুল প্রলয়। চমকাবে বিদ্যুৎ। এলার ঘুমহীন চোখ দু’টি লিখছে আমন্ত্রণের চিঠি! তৃষ্ণার্ত মাটির মতো ঝড়কে চাইছে সে।
এলা বারান্দার রেলিংয়ে ভর দিল। ডানদিকটায় এখনও বাড়ি ওঠেনি, আছে একটা অস্থায়ী ঝুপড়ি। ইস্তিরিওয়ালা ছোকরা থাকে বউ-বাচ্চাসহ। ওরাও শুয়ে পড়েছে। ছেলেটা কাঠফাটা গরমে সারাদিন আগুনের তাপে গলে গলে ইস্তিরি করে। না, দুঃখকষ্ট-সহানুভূতির চক্করে পড়ে এমন সুখজাগানিয়া ঝড়ের অভিসারকে দুর্বল হতে দেবে না এলা। সে চোখ সরায়। মেঘলা আকাশ, ছাঁট-ছাঁট বৃষ্টির সোহাগী আদরে শিহরন। একটু একা লাগছে। শৈশবের বান্ধবীকে ফোন করাই যায়।
—ঝর্ণা, ঘুমোসনি?
  —খাওয়াই হয়নি, তায় ঘুম। ছেলে এই ফিরল। তুই জেগে কেন?
  ঝর্ণার ছেলে খুব উচ্চাভিলাষী নয়। মোটমুটি মাইনেতে কলকতার কড়চায় মেতে আছে। এলার মতে, ছেলেটা আলসে। ছেলেকে দুধেভাতে পুষতে ঝর্ণার জীবনে সময় নিয়ে টানাটানি। এটা ভালো না মন্দ? বোঝে না এলা। তবে ছেলেকে নিয়ে বড়মুখ করে কথা ঝর্ণা বলতে পারে না বটে।
‘ঝড়ের ল্যান্ডফল দেখছি,’ উত্তেজিত গলা এলার। 
—বাব্বা! এই বয়সেও এত রোম্যান্টিক! পারিসও... তা তোর মেয়ে ভালো?
—দিব্যি। বিয়ে-থা করবে না। হয়তো কারও সঙ্গে লিভ-টুগেদার করছে। মাঝে-মাঝে গলার শব্দ পাই—।
—জিজ্ঞাসা কর, মেয়ে তো তোরই।
—ও বাবা! প্রাইভেসি নষ্ট হবে না? যেদিন জানাবে... জানব।
মা-মেয়ের এ কেমন বিচিত্র সম্পর্ক রে বাবা! ভালো না মন্দ বোঝে না ঝর্ণা।
—ছাড় ওসব... আজ আমি ঝড়ের সঙ্গে অভিসারে চলেছি। 
ঝর্ণা আঁতকে ওঠে, ‘সেকি! পাগল হলি?’
পথে স্বল্পবাস একটি তরুণী এক যুবকের কাঁধে ঝুলে ভিজতে ভিজতে চলেছে। মেয়েটার সাহসের বলিহারি! এত রাতে! এই পোশাকে! তুই-তোকারি করে চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে দুটোতে হাঁউমাঁউ করে হাসছে! বৃষ্টির প্রেক্ষাপটে নার্গিস-রাজ কাপুরের ভেজাভেজা একটা স্বপ্নিলদৃশ্য দেখতে মন চাইল এলার। কোথায় কী? এরা ক্যাঁচোর-ম্যাচোর জেনারেশন! আশাহত গলায় এলা বলে, ‘আজকালকার ছেলমেয়েদের মধ্যে কোনও কাব্য নেই রে!’
ঝর্ণা ভাবল, আর কাব্য! বড্ড সাদাকালো দুনিয়ার বাসিন্দা এরা। বেয়াড়া জীবনসংগ্রাম। মেয়ের হাড়ভাঙা খাটুনি চোখে দেখতে হয় না এলাকে। তাই এত কাব্য আসছে। অভিসার আসছে! এই যে তার ছেলেটাকে রবিবারেও অফিসে ছুটতে হয়েছিল বসের পা ধুয়ে দিতে! দাসখতে সই করা কর্পোরেট দুনিয়ার কোট-প্যান্ট-টাই পরা পুতুল এরা! দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঝর্ণা, ‘সুমন কোথায়?’
—ঘুমন্ত।
—তুই-ও ঘুমো।
—না! ঝড় দেখব। হাওয়ার জোর বাড়ছে। ঝুপড়ির চালটা আজ উড়ে যাবে রে!
—ঝুপড়ি?
—আরে, পাশের ইস্তিরিওয়ালার ঘর। বর-বউ-বাচ্চা। বউটা রোজ চেঁচায়, গালাগাল দেয় বরকে ‘ছাদটা সারাও’। আমি শুনি। বরটা শোনে না’।
—তোর খেয়ে-দেয়ে কাজ-কাম নেই। বরটার আছে। বউরা অমন চেঁচায়।
—বউদের এমন অশ্রদ্ধা করছিস? যাকগে, শোন একটু পরে যখন ঝড় চরমবিন্দুতে পৌঁছবে, আমি গান গাইব। গাইবই। রেকর্ডিং করে তোকে পাঠাব।
—এলা, ছেলেকে খেতে দেব। ছাড়ি এখন?
মনে মনে ভাবে মাথাটা গিয়েছে এলার। 
—বাব্বা! দুগ্ধপোষ্য শিশু নাকি তোর ছেলে? আদিখ্যেতা!
—কী করব? মা-পাগল ছেলে!
—হুঃ! ছেলে পাগল, আমি পাগল। তুই একাই সুস্থ! বেরসিক একটা। মোস্ট আনরোম্যান্টিক!
লাইন কাটে এলা। গাছগুলোও তো পাগল হয়ে গিয়েছে! কেমন ভূতের মতো দুলছে। এলার শরীরটা ছমছম করে। গুনগুন করে সুর ছড়ায় রক্তে। ইশ! কত দিন বৃষ্টিতে ভেজেনি সে। ওই ছেলেমেয়ে দুটো যেমন ভিজছিল। সঙ্গী নাই বা থাকল, একাই তো ভেজা যায়!
এই রে! ঝুপড়ির বউটা অমন বিদঘুটে চেঁচাচ্ছে কেন? তুফান ‘রেমাল’ বুঝি পৌঁছে গেল শীর্ষবিন্দুতে! ভয়ঙ্কর বেগ বাতাসের, শোঁ-শোঁ শাসানি- মরমর করে উঠল ঝুপড়ির চালা। আতঙ্কে পরিত্রাহী চেঁচাচ্ছে বউটা। মাতাল বাতাসে ভিজছে এলার শরীর। তার কানে আসছে বাতাসের শব্দ আর ওই বউটার বীভৎস চিৎকার! মরমর শব্দ জোরালো হতে হতে চালাটা হাত বাড়িয়ে যেন আকাশকে ধরতে চাইছে।
এলা দামাল বাতাস আর রেণু-রেণু বৃষ্টিতে বেসামাল। ঝড় যেন এক প্রবল পুরুষ এখন, এলাকে সপাটে টেনে নিচ্ছে বুকে। সমর্পণের সুখ ভাসাবে এখন এলাকে? বোঝার আগেই বউটার মড়াকান্না! এলা ঝোঁকে। হল কী? আরে! ম্যাজিক কার্পেটের মতো উড়ে যাচ্ছে যে চালাটা? এ-ও সম্ভব? হা-হা উদলা ঝুপড়িটা পড়ে আছে খোলা আকাশের নীচে। চৌকিতে শোয়া শরীরগুলো বেআব্রু অসম্ভ্রমে জড়াজড়ি। তীক্ষ্ণ নজরে দেখে এলা। বাচ্চাটার উপর মা, স্ত্রীর উপর স্বামী। ওরা পরস্পরকে জড়িয়ে প্রবল বৃষ্টির প্রবল ধারাপাত থেকে বাঁচার আপ্রাণ লড়াইয়ে মত্ত।
এলা আর দাঁড়াতেই পারছে না। এই বুঝি ল্যান্ডফলের চরম মুহূর্তটি এসে গেল। সব যেন আজ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে! হে ভগবান!
‘অ্যাই-অ্যাই’ চেঁচায় এলা। কী যেন নাম বউটার? মালতী কি? হ্যাঁ, মালতীই।
‘মালতী...’ বাতাসকে হার মানিয়ে ডাকে এলা। ইয়েস, শুনেছে মালতী। ধড়মড় করে উঠে দোতলার বারান্দা তাক করে চেঁচাচ্ছে, ‘কিছু লাগবে বউদি?’
প্রশ্ন শুনে স্তম্ভিত এলা। ‘আমার আবার কী লাগবে? তোমরা তো ভিজে যাচ্ছ। আজ সারা রাত বৃষ্টি হবে। মরে যাবে তো বাচ্চাটা। তোমরা আমাদের সিঁড়ির ঘরে থাকবে এসো।’ এলা ভাবে, না জানি এমন কত শত মালতীরা আজ বৃষ্টিতে ভিজছে! ঝড়টা কখন থামবে? পাকাঘরে বসে এই দুর্যোগকে বোঝা যায় না।
মালতীরা ছুটেছুটে আসছে। ঝুপড়িটার দিকে তাকিয়ে এলার লজ্জা লাগে। ভাবে, মানুষই তো ওরা। এলাদের মতোই হাত, পা, মাথাওয়ালা। কোথায় তফাৎ গড়লেন ভগবান? এমন একটা ঝুপড়িতে যদি এলাকে থাকতে হয় কোনও দিন? ভাবতেই শিউরে ওঠে সে।
নীচে নেমে দরজা খুলে দেয় এলা।
‘আসব?’ দ্বিধাগ্রস্ত মালতী। বউদির সঙ্গে ভয়ে কথা বলেনি সে কোনও দিন। চুপচুপে কাকভেজা তিনটে প্রেতমূর্তি। বাচ্চাটা কাঁপছে হি-হি করে।
এলা এখন ব্যস্ত, অনেক কাজ। খুঁজে বের করছে পুরনো কাপড়-জামা। অকেজো বালিস, চাদর, তোয়ালে। বলে, ‘বাচ্চাটাকে ভালো করে মুছে দাও।’
বাইরে ঝড়ের গর্জন কি ফিকে হয়ে এল? নাকি উপর-নীচ করতে করতে ঝড়কে ভুলল এলা? মালতীর অবয়বে কৃতজ্ঞতা সরে ধীরে-ধীরে স্বস্তির লক্ষণগুলো ফুটতে থাকে। এক কৌটো বিস্কুট আর ক’টা কলা হাতে এলা চেয়েচেয়ে দেখে মালতীর বিছানা পাতা। ভাবে, দোতলা থেকে ওদের দেখেনি সেভাবে… কাছে এলে এদেরও বেশ মানুষ বলে মনে হয়। বাচ্চাটা বিস্কুটের দিকে জুলজুলিয়ে কেমন তাকাচ্ছে! এলা একটা বিস্কুট এগিয়ে দিতেই খপ করে কেড়ে নেয় বাচ্চাটা আর তারপরই ফিক করে হাসে। এলা এমন হাসি কতদিন দেখেনি। খুদে ইলিনা হাসত এমন। হয়তো একদিন ইলিনার সন্তানও... কিন্তু ইলিনা কি চাইবে সন্তান? জানে না এলা।
সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের ঘরে ফিরছে এলা। জীবনে কত কিছুই জানল না এলা, আবার জানলও তো কত কিছু! সিঁড়ির উপরে দাঁড়িয়ে আছে কথাবার্তার আওয়াজে আচমকা জেগে ওঠা বিমূঢ় সুমন। সে দেখে ক্লান্ত এলা উঠে আসছে। চোখে জল কেন বউটার? মুখখানা বড় করুণ আর অসহায়... বহুদিন পর এলাকে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য আকুল সুমন হাত বাড়ায়।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ