Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এলাকা দখল ঘিরে গ্রামের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, উত্তপ্ত রঘুনাথগঞ্জের খেজুরতলা

এলাকা দখল ঘিরে গ্রামের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, উত্তপ্ত রঘুনাথগঞ্জের খেজুরতলা
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমাবাজি ঘিরে শনিবার ভর সন্ধ্যায় রঘুনাথগঞ্জের সেকেন্দ্রা পঞ্চায়েতের খেজুরতলায় উত্তেজনা ছড়ায়। এক গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ও আরেক সদস্যর স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির শাসকলোর আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে। এদিন তাদের রাস্তার পথ আঁটকে মারধর করা হয়। দুষ্কৃতিদের মারে তাঁরা গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। মারধরের খবর এলাকায় জানাজানি হতেই এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্তরা। তাদের ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। রঘুনাথগঞ্জ থানার এক পুলিস অফিসার জানিয়েছেন, এলাকায় অশান্তি পাকানোর অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গণ্ডগোল দীর্ঘদিনের। এদিন সন্ধ্যায় রঘুনাথগঞ্জের রামদেবপুর পচারমোড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রাজা শেখ ও জলি খাতুনের স্বামী রহমান শেখের পথ আটকায় কয়েকজন দুষ্কৃতি। তারা সকলেই স্থানীয় লালখান দিয়ারের এক প্রভাবশালী নেতার অনুগামী বলে আক্রান্তদের দাবি। লাঠি সোঁদা ও রড দিয়ে তাদের দু'জনকেই বেধড়ক মারধর করে। মারধরের খবর এলাকায় পৌঁছাতেই ফের একবার এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আক্রান্ত দুই সদস্য তারা এলাকায় গিয়ে অপর গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য সুকু শেখ এর বাড়িতে বোমাবাজি করেন করে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রঘুনাথগঞ্জ থানার বিশাল পুলিস বাহিনী। তারপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিসের গাড়িতে ও হামলা চালায়। 
Advertisement
গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সাজা শেখ বলেন, আমরা জঙ্গিপুর যাচ্ছিলাম ওরা আমাদের পথ আটকায় তারপর মারধর করে। বাড়িতে চড়াও হয়ে বোমাবাজি ও করে। সেকেন্দ্রা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান পারভিন খাতুন বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল। আমাদের লোকজন কোন ঝামেলায় থাকেনা। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পুরনো গণ্ডগোল ঘিরে অশান্তি। পুরনো আক্রোশের বদলা নিতেই গণ্ডগোল করা হয়। আমাদের বাড়িঘর লুটপাট ও প্রাণে মেরা ফেলার হুমকি দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, সেকেন্দ্রা, লালখান দিয়ার ও গিরিয়ায় এলাকার ক্ষমতা দখলের লড়াই দীর্ঘদিনের। গত কয়েক বছর ওইসব এলাকা শান্ত থাকলেও এলাকার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সম্পর্কিত সংবাদ