সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: এক অবাক কাণ্ড। এবার গজরাজের হানা বনদপ্তরের ওয়াচ টাওয়ারের রান্নাঘরে। শুঁড়ে করে তুলে নিয়ে গেল রান্না করা ডালভর্তি প্রেশার কুকার। বনকর্মীরা তাড়া করলেও প্রেসার কুকার নিয়েই পগার পার হয় হাতিটি।
সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: এক অবাক কাণ্ড। এবার গজরাজের হানা বনদপ্তরের ওয়াচ টাওয়ারের রান্নাঘরে। শুঁড়ে করে তুলে নিয়ে গেল রান্না করা ডালভর্তি প্রেশার কুকার। বনকর্মীরা তাড়া করলেও প্রেসার কুকার নিয়েই পগার পার হয় হাতিটি।
বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ১০ মাইল রেঞ্জের সেভক ফরেস্টের ভিতরে একটি ওয়াচ টাওয়ারের কিচেন রুম ভেঙে দেয় হাতি। বনকর্মীদের প্রাতঃরাশ সাবাড় করে। পরে ডাল ভর্তি প্রেশার কুকার নিয়ে হনহন করে জঙ্গলের দিকে রওনা হয়। বনকর্মীরা চিৎকার চেঁচামেচি করলেও প্রেশার কুকারটি নিয়েই জঙ্গলে ঢুকে যায় হাতিটি।
সেভকের ১০ মাইলে জঙ্গলের ভিতরে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। সেই টাওয়ারে তিনজন বনকর্মী থাকেন। প্রতিদিনের মতো এদিনও তাঁরা সকালে রুটি-সব্জি বানিয়েছিলেন। প্রেশার কুকারে ডাল রাঁধেন। বনকর্মীরা যখন সবকিছু সাজিয়ে নিয়ে খেতে বসেন তখনই লক্ষ্য করেন একটি হাতি রান্নাঘরের জানালা দিয়ে শুঁড় ঢুকিয়ে দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বনকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে টাওয়ারের উপরে উঠে পড়েন। হাতিটি তখন রান্নাঘর ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। রুটি-সব্জি সাবাড় করে। প্রেসার কুকারে ডাল রান্না করা ছিল। সেই ডাল বের করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। অবশেষে প্রেশার কুকারটিই শুঁড়ে তুলে রওনা হয়। যা দেখে বনকর্মীরা চিৎকার চেঁচামেচি করলেও কোনও লাভ হয়নি। ১০ মাইলের রেঞ্জার রাজকুমার লায়েক বলেন, গত বছরও কিচেন রুম ভেঙে দিয়েছিল হাতি। সাবাড় করেছিল মজুত খাদ্যসামগ্রী। এদিনও আসে একটি হাতি। বনকর্মীদের রান্না করা খাবার খেয়ে ফেলে। প্রেশার কুকার নিয়ে যায় এবার।
অন্যদিকে, বুধবার ভোররাতে নাগরাকাটা ব্লকের গ্রাসমোড় চা বাগানের ২ নম্বর লাইনে হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি কাঁচাবাড়ি। পার্শ্ববর্তী ডায়নার জঙ্গল থেকে একটি হাতি চলে আসে বাগানের। রাম ওরাওঁয়ের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই সময় রাম পরিবার নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। টের পেতেই পরিবারের সকলকে নিয়ে পিছনের দরজা খুলে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। সকালে ডায়না রেঞ্জের বনকর্মীরা এসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করে যান।