নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় গত আট বছরে ১৫ শতাংশ হাতির সংখ্যা বেড়েছে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ২০১৭ সালে মোট হাতির সংখ্যা ছিল ১৯৪টি। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৪। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, একসময় এখানকার বনভূমি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল। বন্য প্রাণীরা হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন সেখানে জঙ্গল বাড়ছে। বনের পশুপাখিদের সংখ্যাও বাড়ছে। হাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হাতির উপদ্রব ঠেকাতেও স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে ঝাড়গ্রামের জঙ্গল। গত এক দশকে এখানে বেড়েছে হাতি, নেকড়ে ও হরিণের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের খাবারের সংস্থান বাড়াতে বনবিভাগ একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, বন ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় বনবিভাগ নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন জঙ্গলে বেড়েছে হাতি, হরিণ, নেকড়ে ও অন্য বন্যজন্তু। যা আমাদের কাছে উৎসাহের। হাতির উপদ্রব ঠেকাতে যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে তাতেও সাফল্য মিলবে। ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন রেঞ্জে গত একদশকে জঙ্গলের ঘনত্ব অনেকটাই বেড়েছে। প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রাম, লোধাশুলি, মানিকপাড়া, বাঁশপাহাড়ী, ভুলাভেদা, বেলপাহাড়ী, শিলদা, জামবনি, পড়িহাটি, গোপীবল্লভপুর ও হাতিবাড়িয়া রেঞ্জে বনভূমির মোট আয়তন ৪৩ হাজার ১৫০ হেক্টর। দীর্ঘসময় ধরে গাছ কাটায় বনভূমির সীমানা ক্রমাগত ছোট হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে বনসুরক্ষা কমিটি গঠন করে বনভূমি রক্ষার চেষ্টা শুরু হয়েছিল। মাঝে জঙ্গলমহলে রাজনৈতিক ডামাডোল চলায় সেই কাজের গতি থমকে যায়। বেলপাহাড়ী, বাঁশপাহাড়ী, ঝাড়গ্রাম, লোধাশুলি, মানিকপাড়ার মতো বনাঞ্চল এলাকায় ২০০৯সালে প্রতি হেক্টর বনভূমিতে শালগাছের সংখ্যা গড়ে পঞ্চাশ থেকে ১০০ নীচে নেমে আসে। শালগাছ ফের লাগিয়ে বনভূমি বাড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়। বর্তমানে হেক্টর প্রতি শালগাছের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র ঝাড়গ্রাম জেলার বনাঞ্চলেই এখন দেড় কোটির বেশি শাল গাছ, যা জঙ্গলের ঘনত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। বনবিভাগের তরফে জঙ্গলে ফল, বাঁশ ও গুল্মজাতীয় গাছ লাগানো হচ্ছে। গিধনি বনাঞ্চলে পাঁচটি পুকুর খনন করা হয়েছে। খাবার ও জল মেলায় নয়াগ্ৰাম ও বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে হরিণ, নেকড়ে ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ফাইল চিত্র