সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: মঙ্গলবার সকাল থেকে রেশন গ্রাহকদের ‘পুজো উপহার’ হিসাবে ময়দা, চিনি, সুজি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সোমবার রাতে রেশন দোকানে হানা নিয়ে ওসব সাবাড় করল দু’টি হাতি। যার ফলে এদিন সকালে রেশন দোকানে এসেও খালি হাতে ফিরে যেতে হল উপভোক্তাদের। নাগরাকাটা ব্লকের বামনডাঙা চা বাগানে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বামনডাঙার একটি রেশন দোকান ও সংলগ্ন গোডাউনের শাটার ভেঙে ভিতরে ঢুকে মজুত রাখা কয়েক বস্তা চাল, ময়দা, চিনি ও সুজি খেয়ে, পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয় দু’টি বুনো হাতি। যদিও আগেও এই রেশন দোকানে হাতি এসেছিল। খাবারের লোভেই বারবার আসছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। গত কয়েক বছরে সত্তরবার এই রেশন দোকান ও গোডাউনে হামলা চালাল হাতি। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, পুজোর মুখে তাঁরা সরকারি রেশন থেকে বঞ্চিত হলেন। এমন ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে রেশন ডিলারেরও।
রেশন ডিলার প্রেম আগরওয়াল বলেন, পুজো উপলক্ষ্যে সরকার থেকে সকলকে চিনি, ময়দা, সুজি দিতে রবিবারই ওসব আসে। এছাড়াও গোডাউনে ভর্তি ছিল চাল ও গম। সোমবার রাতে দু’টি হাতি শাটার ভেঙে কয়েক বস্তা চিনি, ময়দা, সুজি, চাল সাবাড় করেছে। পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। এদিন সকাল থেকেও ওসব শ্রমিকদের ‘পুজো উপহার’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু, কিছুই দিতে পারলাম না। কীভাবে দেব, জানি না। খাদ্য সরবরাহ দপ্তরে জানাব।
উল্লেখ্য, নাগরাকাটা ব্লকের অন্যতম হাতি উপদ্রুত এলাকা বামনডাঙা চা বাগান। হাতি ছাড়াও বাগানে চিতাবাঘ, বাইসন, গন্ডার ও জঙ্গলি শুয়োরের উপদ্রব রয়েছে। রেশন দোকান বাঁচাতে ডিলার প্রেম আগরওয়াল ব্লেড তার এমনকী গোডাউনের শাটারের মধ্যে ছোটো ছোটো রড গেঁথে রেখেছিলেন। কিন্তু, হাতি ওসব নষ্ট করে দিয়ে শাটার ভেঙে খাদ্যসামগ্রীর বস্তা টেনে বাইরে বের করে এনে সাবাড় করেছে।



