সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রবিবার রাতে সোনামুখীর নারায়ণপুরে হাতি তাড়াতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আক্রান্ত হলেন বনকর্মীরা। ঘটনায় বনদপ্তরের চারটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। ক্ষিপ্ত জনতার ছোড়া ইটের ঘায়ে জখম হন সোনামুখীর রেঞ্জ অফিসার। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বনকর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ঘটনায় বনদপ্তরের তরফে সোনামুখী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এবিষয়ে অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
বনদপ্তরের বাঁকুড়া উত্তর ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, সোনামুখীর নারায়ণপুরে হাতির স্বাভাবিক গতিপথে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তার প্রতিবাদ করাতেই কর্মীদের হেনস্তা এবং সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকা থেকে সোনামুখীর নারায়ণপুরের দিকে ১০টি হাতি চলে আসে। হাতিগুলিকে জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে নির্দিষ্ট রুটে পাঠাতে সোনামুখীর রেঞ্জ অফিসারের নেতৃত্বে হামিরহাটি সহ পার্শ্ববর্তী একাধিক বিট অফিসার, অন্যান্য বনকর্মী এবং এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের কর্মীরা এলাকায় যান। হাতির দলটি নারায়ণপুরের মধুরবাঁধের দিকে যেতেই স্থানীয় বাসিন্দারা মশাল জ্বেলে তাদের যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করেন। বনকর্মীরা বোঝানোর পর তাঁরা সাময়িকভাবে সরে যান। কিন্তু পরে মধুরবাঁধের কাছে আরও ১৫-২০ জন স্থানীয় মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হয়। কিছুটা দূর থেকে তারা বনকর্মীদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে বনকর্মীদের প্রথমে হুমকি এবং পরে শারীরিক হেনস্তা করা হয়। দপ্তরের চারটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। তার মধ্যে একটি গাড়িতে ছিলেন সোনামুখীর রেঞ্জ অফিসার আলমগীর হক। ইটের ঘায়ে কাচ ভেঙে তাঁর শরীরে লাগে। তাতে তিনি জখম হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বনকর্মীরা সোনামুখী থানায় খবর দেন। এরপর বিরাট পুলিশ বাহিনী এসে ঘটনাস্থল থেকে বনকর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে বনদপ্তরের তরফে ১৫-১৬জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনামুখী রেঞ্জ এলাকায় যাতায়াতের পথে বুনো হাতির দাপটে ফসল ও ঘরবাড়ি ভাঙার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তাই এলাকায় হাতি এলেই স্থানীয় বাসিন্দারা ফসল বাঁচানোর জন্য তাদের গতিপথে বাধা সৃষ্টি করেন। অনেক ক্ষেত্রে হাতির হানায় ক্ষতির জেরে বনকর্মীরা স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন। এনিয়ে এলাকায় একাধিকবার মারধর, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবারও একইভাবে সোনামুখীর হামিরহাটি বিটের অন্তর্গত নারায়ণপুর এলাকায় বনকর্মীদের হেনস্তা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।