Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্যুতের মিটার বিকল, এক বছর ধরে চড়া বিল মেটাল দুঃস্থ পরিবার

এক বছর আগেই খারাপ হয়ে গিয়েছিল বাড়ির বিদ্যুতের মিটার।

বিদ্যুতের মিটার বিকল, এক বছর  ধরে চড়া বিল মেটাল দুঃস্থ পরিবার
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এক বছর আগেই খারাপ হয়ে গিয়েছিল বাড়ির বিদ্যুতের মিটার। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অফিসে বহুবার অভিযোগ জানালেও সারানো হয়নি সেই মিটার। ফলে এক বছর ধরে চড়া হারে বিদ্যুতের বিল মেটাতে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া অসহায় ভ্যানচালকের পরিবারকে। বিল মেটানোর চক্করে তাঁদের আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ। এক বছর পর অবশেষে বিকল মিটার পরিবর্তন করেছে বিদ্যুতের অফিসের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে জগৎবল্লভপুরের মানসিংহপুরে।

Advertisement

বড়গাছিয়ার মানসিংহপুরের মাইতিপাড়ায় থাকেন শংকর দাস। বয়সের ভারে তিনি এখন আর ভ্যান চালাতে পারেন না। ছেলে ভ্যান চালিয়ে যেটুকু আয় করেন, তাতেই টালির জীর্ণ বাড়িতে চলে সংসার। শংকরবাবুর অভিযোগ, এতদিন তিন মাস অন্তর যে বিদ্যুতের বিল আসত, তা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেই থাকত। কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় গত বছরের আগস্ট মাসে। সেবার পাঁচ হাজার টাকারও বেশি অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল আসে। মাথায় হাত পড়লেও ধারদেনা করে সেই বিল মেটান তিনি। মিটার বক্সে গোলযোগ রয়েছে, বুঝতে পেরে বড়গাছিয়ায় বিদ্যুতের অফিসে তিনি লিখিত অভিযোগ জানান। সেখান থেকে সংস্থার কর্মীরা তাঁর বাড়িতে এসে মিটার বক্স পরীক্ষার পর জানান, সেটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। দ্রুত সেটি পাল্টানো হবে। শংকরবাবুর অভিযোগ, এরপর থেকে যতবারই তিনি মিটার বক্স পাল্টানোর জন্য ওই অফিসে গিয়েছেন, ততবারই একই আশ্বাস শুনতে হয়েছে তাঁকে। ফলে গত বছর শীতকাল ছাড়া বাকি মাসগুলিতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বাড়তি বিল মেটাতে হয়েছে অসহায় পরিবারটিকে।
শংকরবাবু বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে। তাই এখন আর ভ্যান চালাতে পারি না। ছেলের রোজগারেই পরিবার চলছে। বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে অনেকদিন আধবেলা খেয়ে থাকতে হয়েছে।’ অবশেষে এক বছর পর বৃহস্পতিবার শংকরবাবুর জীর্ণ বাড়িতে এসে বিকল মিটার পাল্টাল বিদ্যুৎ দপ্তর। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল অসহায় পরিবারটি। কেন মিটার পরিবর্তন করতে এত সময় লাগল, বিদ্যুৎ সংস্থা অবশ্য সেই উত্তর দেয়নি। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, ‘নতুন সংযোগের জন্য পর্যাপ্ত মিটারের জোগান রয়েছে। কিন্তু পুরনো মিটার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরবরাহ খানিকটা কম। তবে তার জন্য এক বছর সময় লাগার কথা নয়।’ দপ্তরের দাবি, সাধারণত মিটার খারাপ থাকলে গত বছরে সেই মাসের বিদ্যুৎ বিলের হিসেব অনুযায়ী চলতি মাসের বিল নির্ধারণ করা হয়। শংকরবাবুর ক্ষেত্রে অবশ্য 
তা হয়নি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ