রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি দুর্গম ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। এর মধ্যে তিনটি কালচিনি বিধানসভার রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বক্সা পাহাড়ে। বাকি দু’টি নদীবিচ্ছিন্ন কুমারগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়েছে। সমতল থেকে ২৯০০ ফুট উচ্চতায় হিমালয়ের সিঞ্চুলা রেঞ্জের বক্সা পাহাড়ে থাকা ওই তিনটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হল ২৩৪ নম্বর বক্সা ফোর্ট সদরবাজার প্রাথমিক, ২৩৫ নম্বর আদমা প্রাথমিক ও ২৩৬ নম্বর চুনাভাটি প্রাথমিক স্কুলের বুথ।
অন্যদিকে, কুমারগ্রামের দুর্গম দু’টি বুথ হল ধনতলি টাপু প্রাথমিক ও জয়দেবপুর টাপু প্রাথমিক স্কুল। দুর্গম হওয়ায় বুধবার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে ডিসিআরসি কেন্দ্র থেকে ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে ভোটকর্মীরা সকাল সকাল ওই পাঁচটি ভোট কেন্দ্রে রওনা হয়ে যান। পিঠে সরঞ্জাম নিয়ে সমতলের সান্তলাবাড়ি থেকে রীতিমতো ট্রেকিং করে ভোটকর্মীরা বক্সা পাহাড়ের পাকদণ্ডি বেয়ে তিনটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছে যান। শুধু পাহাড়ের চড়াই উৎরাই নয়, ট্রেকিং করে তিনটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছতে ডিমা ও আদমা নদীও পেরতে হয় কর্মীদের। সান্তলাবাড়ি থেকে আদমা আট, বক্সা ফোর্ট ও চুনাভাটির দূরত্ব পাঁচ কিমি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, বক্সার সদর বাজার বুথে ৭৪৪, আদমায় ৪৩০ ও চুনাভাটিতে ২২০ জন ভোটার।
এদিকে, কুমারগ্রামের দুর্গম জয়দেবপুর টাপু ও ধনতলি টাপু যেতে হয় রায়ডাক নদী পেরিয়ে। তার জন্য প্রশাসনের তরফে দুর্গম দু’টি বুথের কর্মীদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বুধবার নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। কর্মীরা ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে এদিন নৌকায় চেপে নদী পেরিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছন।
কুমারগ্রামের বিডিও সন্দীপ ধাড়া বলেন, নদী পার হওয়ার জন্য ধনতলি টাপু ও জয়দেবপুর টাপুর বুথের ভোটকর্মীদের নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিডিও জানান, জয়দেবপুর টাপুতে ৩৮৪ ও ধনতলি টাপুতে ৪৪১ জন ভোটার। এদিকে, দুর্গম না হলেও জলদাপাড়া জঙ্গলের ভিতরে ছ’টি ও জঙ্গল ঘেঁষে ১২৪টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র পড়েছে। ভোটার ও ভোটকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বনদপ্তর ওই ১৩০টি বুথে নজরদারি শুরু করেছে। তার জন্য মাদারিহাটে বনদপ্তর একটি কন্ট্রোল রুমও খুলেছে। তৈরি রাখা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিমকেও। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি দেখা দিলে কন্ট্রোল রুমে ফোন করলেই পৌঁছে যাবেন টিমের সদস্যরা।