Bartaman Logo
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১৫ দিনের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন, প্রস্তুতি শুরু বিজেপির

আগামী ১৫সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ফাঁকা হয়ে যাওয়া ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন হবে

১৫ দিনের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন, প্রস্তুতি শুরু বিজেপির
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামী ১৫সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ফাঁকা হয়ে যাওয়া ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন হবে। কাদের সেই পদে বসানো হবে, তা নিয়ে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। গত ৪মে পালাবদলের পর একশোর বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং একচেটিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল নেতানেত্রীরা। অধিকাংশ জায়গায় গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের কাজ সেরে ফেলেছে বিজেপি। জেলা পরিষদেরও দখল নিয়েছে তারা। এবার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা শুরু হল। 

Advertisement

সেই লক্ষ্যেই ৩১আগস্ট সোমবার তমলুকে জেলা বিজেপি পার্টি অফিসে তমলুক সাংগঠনিক জেলা কোর কমিটির বৈঠক হয়। সৌমেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কোর কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনের জন্য নেতৃত্বের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭সেপ্টেম্বর তমলুক ও ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন হবে। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলার সমস্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। কবে কোন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন হবে, তা মহকুমা শাসকরা ঠিক করবেন। 
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, আগামী ১৫সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবক’টি সমিতির সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। মহকুমা প্রশাসন দিন ধার্য করবে। আপাতত তমলুক ও ময়নার সভাপতি নির্বাচনের তারিখ ফাইনাল হয়েছে।
জানা গিয়েছে, টানা তিন মাসের বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত কিংবা পঞ্চায়েত সমিতি বোর্ডহীন অবস্থায় রাখা যায় না। অর্থাৎ প্রধান কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইস্তফা দিলে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় বোর্ড গঠন করতে হবে। অন্যথায় কোর্টে মামলা হলে প্রশাসনকে এনিয়ে কৈফিয়ত দিতে হবে। 
এই অবস্থায় বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে বিজেপির মধ্যেও এনিয়ে জোরকদমে প্রস্তুতি নিতেই সোমবার ওই মিটিং ছিল।
ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কে হবেন, সেটা ঠিক করার জন্য বিধায়ক তথা মন্ত্রী অশোক দিন্ডাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির দুই জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল ও সোমনাথ ভুঁইয়া। তমলুক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা সভাপতি মলয় সিনহাকে। তিনি এক্ষেত্রে ময়না, নন্দকুমার ও তমলুক বিধায়কের পরামর্শ নেবেন। কারণ তমলুক ব্লক এলাকাটি ওই তিন বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত। এভাবেই মহিষাদল, সুতাহাটা, হলদিয়া, পাঁশকুড়া, কোলাঘাট, চণ্ডীপুর, শহিদ মাতঙ্গিনী সহ ফাঁকা থাকা সব পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনের জন্য কোর কমিটির সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতি। ২০২৩সালে নন্দীগ্রাম-১ ও ২ এবং খেজুরি-২ সমিতি দখল করে বিজেপি। বাকি ২২টি সমিতির দখল নিয়েছিল তৃণমূল। এগরা-২ সমিতিতে তৃণমূল ও বিজেপি দুই দল সমান আসন পাওয়ায় টস হয়। সভাপতি তৃণমূলের ও সহ সভাপতি পদ পায় বিজেপি। সেখানে সহ সভাপতিকে সভাপতি হিসেবে কাজ চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেতানেত্রীরা। কাঁথি-৩ পঞ্চায়েত সমিতিতে কয়েকদিন আগে সভাপতি নির্বাচন হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ