নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় এসআইআর ঘিরে এবার গেরুয়া শিবিরেও অসন্তোষের পারদ চড়তে শুরু করেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অফিসের সামনে সরাসরি প্রতিবাদে মুখর হবেন। তার আগে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে কমিশনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সেই আবহে এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফেও একইভাবে কমিশন বিরোধিতা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। প্রথমিকভাবে এসআইআর থেকে ভোটবাক্সে ডিভিডেন্ড প্রাপ্তির আশায় ছিলেন বিজেপি নেতারা। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে নিরাশাই সঙ্গী হচ্ছে পদ্ম শিবিরে। কান পাতলেই এসআইআর শুনানি ঘিরে আম জনতার হয়রানির খবর সর্বত্র শোনা যাচ্ছে।
জনমানসে তৈরি হওয়া এই বিরূপ মনোভাব আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিপক্ষে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস সুকৌশলে তার ফায়দা তুলতে মাঠে নেমে পড়েছে। প্রথম পর্বে এসআইআরে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছিলে। রাজ্য বিজেপির তাবড় নেতারা যা নিয়ে রীতিমতো হুংকার দিতে শুরু করেছিলেন। অনেকে আবার একধাপ এগিয়ে দাবি করেছিলেন চূড়ান্ত পর্বে সওয়া কোটি নাম বাদ যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের শিরে সংক্রান্তি দশা। তাতে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে, তা অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাজে বঙ্গ বিজেপি নেতারা ভীষণই ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, গরিব-প্রান্তিক মানুষ থেকে প্রবীণ নাগারিকদের শুনানির নামে কার্যত হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। তা মেনে নিতে পারছে না বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব। সম্প্রতি সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন দুদিনের রাজ্য সফরে এসেছিলেন। সেখানে এই ইস্যুটি তাঁর কাছে তোলা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কেন রাজ্য সফরে আসছেন না, সেই প্রশ্নও তোলা হচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার নামে উলটে এই দুর্ভোগের দ্রুত অবসান চাইছেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।