নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রবল চাপে ব্যাকফুটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার! শনিবার, ককরোচ জনতা পার্টির ‘যন্তরমন্তর ২.০’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মরিয়া হয়ে বৈঠক ডেকে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিলেন। ড্যামেজ কন্ট্রোলের বার্তা দিতে চাইলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তগুলি আদতে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে যে, ফর্ম ৬ বদল-ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি ইত্যাদি সব অভিযোগ তিনি পরোক্ষে মেনেই নিচ্ছেন। আর তাই একদিকে আজ, রবিবার দিল্লিতে হতে চলেছে বিশেষ এসআইআর ক্যাম্প। আর অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনে গঠন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন দুই উচ্চপর্যায়ের কমিটি। এর মধ্যে একটি কমিটির কাজ হল, কমিশনের ডিজিটাল পোর্টাল ব্যবস্থা ‘ইসিআইনেট’-এর খামতি যাচাই করা। অর্থাৎ, ‘ইসিআইনেট’ কীভাবে কাজ করছে, নিয়ম মেনে সঠিক তথ্য আপলোড হচ্ছে কি না ইত্যাদি। এই কমিটিতে থাকবেন আইআইটি বা আইআইআইটির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। দেশজোড়া বিক্ষোভের আঁচে শনিবার তড়িঘড়ি জ্ঞানেশ কুমারের ডাকা জরুরি বৈঠকে হাজির ছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিও। এসআইআর কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁদের উত্থাপিত ১৪টি আপত্তিই সম্প্রতি ঝড় তুলেছে দেশে। এদিন তিনজনের ছবি প্রকাশ করে, কমিশন যে ঐক্যবদ্ধ সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলায় কমিশন কেন তালিকায় নাম ওঠা ১৬ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাতিলের আবেদন জানিয়েছে ট্রাইবুনালে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
ওই বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম—চলতি এসআইআরে যাদের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাদের আর শুনানির জন্য ইআরও বা এইআরও অফিসে সশরীরে হাজির হতে হবে না। বিএলও-রাই সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড করবেন। যদি শুনানির প্রয়োজনও হয়, তবে মূলত অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া ভোটারের অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবারের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাবেন। বৈধ ভোটারদের হয়রানি নিয়ে এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে সেই অভিযোগ কার্যত মেনে নিয়ে করা হল নতুন এই ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের নিয়ে আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন থেকে ভোটার পোর্টাল সংক্রান্ত যে কোনো নতুন নীতি বা পরিকাঠামোগত পরিবর্তন চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে, বাধ্যতামূলকভাবে এই কমিটিতে যাচাই করা হবে। এছাড়া দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বিয়োজন এবং সংশোধন সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি পেশ এবং নিষ্পত্তির সময়সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিণতি চিন্তা করে জ্ঞানেশ কুমার যে আতঙ্কিত, সেকথা স্পষ্ট। কিন্তু শুধু কি তিনিই ভয় পেয়েছেন, নাকি তাঁর পিছনে থাকা শক্তিও ভীত-সন্ত্রস্ত? অর্থাৎ সরকার! তাই এই মরিয়া চেষ্টা ভুল সংশোধনের? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।