Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গলদ বুঝলে এবার ফর্ম ফেরত! ফের যাচাই, কমিশনের সিদ্ধান্তে নয়া সংকটে বিএলওরা

আগেই ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন শেষ করে ফেলেছেন বহু বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। কিন্তু তার মানেই কাজ শেষ নয়!

গলদ বুঝলে এবার ফর্ম ফেরত! ফের যাচাই, কমিশনের সিদ্ধান্তে নয়া সংকটে বিএলওরা
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগেই ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন শেষ করে ফেলেছেন বহু বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। কিন্তু তার মানেই কাজ শেষ নয়! এবার গলদ বুঝলে অ্যাপ মারফত সেই ফর্ম তাঁদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সেই মতো বিএলও অ্যাপে যুক্ত হয়েছে একটি নতুন ট্যাব। বহু বিএলওর কাছে ডিজিটাইজড ফর্ম ফেরতও আসতে শুরু করেছে। তার জেরে নতুন করে সংকটে পড়েছেন বিএলওরা। কমিশন সূত্রে খবর, দিন দু’য়েক আগেই বিএলও অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘সেন্ট ব্যাক বাই এইআরও/ইআরও’ নামে ওই নয়া ট্যাব। এই ট্যাবেই বিএলওদের কাছে ফেরত আসছে ফর্মগুলি। সেগুলি দেখে ফের যাচাই করে পুরোনো পদ্ধতিতে আরও একবার ডিজিটাইজ করতে হচ্ছে বিএলওদের। 

Advertisement

ইনিউমারেশনের সময় বৃদ্ধি করলেও একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। ফলে নতুন করে কাজের চাপ বাড়ছে বিএলওদের। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসককে পাঠানো চিঠিতে সিইও দপ্তরের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফের একাধিক বিষয় যাচাই করতে হবে বিএলও-ইআরওদের। 
কোন ধরনের ফর্ম ফেরত আসছে? ১) যে সব ভোটার নিজেদের পরিবারের প্রধান বলে দাবি করেছেন, ২০০২ সালে তাঁদের বয়স ৬০ বা তার বেশি ছিল কি না, তা ফের যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকলে। ২) ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শুধুমাত্র বাবা বা মায়ের নাম রয়েছে, এমন কোনও ভোটারের বয়স যদি ২০২৫ সালে ৫০ বছর বা তার বেশি। কারণ, সে ক্ষেত্রে তাঁকে প্রশ্ন করতে হবে, ২০০২ সালে তাঁর বয়স ২৫ বছর বা তার বেশি হওয়া সত্ত্বেও কেন ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। ৩) বিএলওর ম্যাপ করা বাবা-মায়ের নাম ২০২৫ সালের তালিকার সঙ্গে না মিললে। সেক্ষেত্রে ফর্ম ফেরত আসার পর সেই ভোটারের বাড়ি গিয়ে অথবা ফোন করে তা যাচাই করতে হবে। এছাড়া পরিবারের অনুপস্থিত সদস্যের হয়ে অন্য কেউ সই করলেও ফর্ম ফেরত আসার সম্ভাবনা থাকছে। 
স্বাভাবিকভাবেই তাই ফের কাজের চাপ বাড়তে চলেছে বিএলওদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা বিধানসভার এক বিএলওর বক্তব্য, ‘গত এক মাস ধরে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কী কারণে ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ হওয়ার পর একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হল? কাজ শুরুর সময় এইসব তথ্য পৃথকভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে অনেক সুবিধা হত।’
যদিও সিইও অফিসের এক আধিকারিকের বক্তব্য, কমিশনের তরফে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তেমনই কোনও অযোগ্য ভোটার যাতে তালিকাভুক্ত না হন, সে ব্যপারেও ১০০ শতাংশ সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু অতিরিক্ত সময় মিলেছে, তাই পুনরায় বিষয়গুলি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের চাপ বাড়ছে, তা অনস্বীকার্য। তবে বিএলওদের উপরই গোটা প্রক্রিয়া নির্ভর করছে। যদিও এতকিছুর পর কমিশনের পরিসংখ্যানেই বিভ্রান্তি বাড়ছে। কারণ, মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারশূন্য বুথের সংখ্যা ২২৮০ থেকে কমে ২০’তে ঠেকেছে। ফলে যাচাই নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ