Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্বাচনি আচরণবিধি ভেঙে শাড়ির কুপন বিলি, ‘কাঠগড়ায়’ তৃণমূল

নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বীরভূমের মাটিতে তার তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠল ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে।

নির্বাচনি আচরণবিধি ভেঙে শাড়ির কুপন বিলি, ‘কাঠগড়ায়’ তৃণমূল
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বীরভূমের মাটিতে তার তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠল ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে। সাঁইথিয়া বিধানসভার বনগ্রাম অঞ্চলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি শাড়ির কুপন বিলি করার অভিযোগ তুলে সরব হল বিজেপি। শুধু মৌখিক অভিযোগই নয়, কুপন বিলির ছবি এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট সামনে এনে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে পদ্ম শিবির।

Advertisement

শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে জেলা বিজেপির সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় শাসকদলের এই কথিত ‘প্রলোভনের রাজনীতি’ ফাঁস করেন। যদিও সেই ছবি বা ভাইরাল হওয়া চ্যাটের সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি। উদয়শঙ্করবাবুর পেশ করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কুপনের গায়ে তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীকের পাশাপাশি একটি শাড়ির ছবিও ছাপা রয়েছে। বিজেপির আনা তথ্য অনুযায়ী, জনৈক শানু চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘আজকে বিকেল সাড়ে চারটে সময় বাড়ি বাড়ি টোকেন বিলি করা হবে। তাই সকলে সাড়ে চারটের সময় বোলসুন্ডা কলোনি পার্টি অফিসে এসে উপস্থিত হবেন।’ পাল্টা জবাবে তুষার নামে অন্য এক ব্যক্তি লিখছেন, ‘আজ কুপন সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দাও। বুঝিয়ে বলে দেবে ২৪ তারিখ সকালে সবারই বাড়িতে পৌঁছে যাবে। একটা বাড়িতে যতজন মহিলা আছে সবাইকে দিয়ে দেবে।’ জেলা বিজেপি সভাপতির দাবি, এই তুষার আসলে স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তুষার মণ্ডল এবং শানু চট্টোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতেরই সদস্য। সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে উদয় শঙ্করবাবু বলেন, ‘নির্বাচন আচরণবিধি লাগু হয়ে যাওয়ার পর কি এভাবে শাড়ির কুপন বিলি করা যায়?› ওই বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত সাহা বলেন, ‹তৃণমূল বুঝতে পেরেছে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয় নিশ্চিত, তাই মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে ভোট লুট করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।’ এর পাশাপাশি হরিসরা অঞ্চলেও বিজেপির দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন খুলে দেওয়ার অভিযোগ এনে কমিশনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন জেলা সভাপতি। বনগ্রাম অঞ্চলের উপপ্রধান তুষার মণ্ডল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, আমরা ভোট প্রচারের জন্য ওই কুপনগুলি ছাপিয়েছিলাম। 
আগামী ৫ তারিখ এই অঞ্চলেই প্রচারে আসার কথা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির কনভেনার অনুব্রত মণ্ডলের। তার আগে এই ‘কুপন-কাণ্ড’ সাঁইথিয়ার রাজনৈতিক আবহকে যে উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ