সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: মঙ্গলবার দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের এ-জোন এলাকায় দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের(ডিএসপি) একটি আবাসন থেকে একজন প্রৌঢ়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতার নাম ছবি দাস(৫৬)। তিনি আয়ার কাজ করতেন। তাঁর বাড়ির দুর্গাপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ঘটনায় ওই প্রৌঢ়াকে খুন করে মৃতদেহ আবাসনের একটি গোডাউনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে ও ধৃতের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী অভিযুকের উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, ছবিদেবীকে খুন করেছে সে। তারপর মৃতদেহ আবাসনের একটি গোডাউনে লুকিয়ে লবণ ছড়িয়ে দিয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে এসিপি ও দুর্গাপুর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
এসিপি(দুর্গাপুর) সুবীর রায় বলেন, একাজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছবিদেবী ডিএসপি মেন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে আয়ার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তবে, শারীরিক অসুস্থতার জন্য গত কয়েকবছর ধরে আর কাজ করছিলেন না। ছবিদেবীর সঙ্গে এ-জোনের গুরুনানক রোডের ওই বাসিন্দার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ওই এলাকায় ডিএসপির একটি আবাসনের আউট হাউসে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করত অভিযুক্ত। সে আগে ডিএসপির কারখানায় ঠিকা শ্রমিক ছিল। প্রায় ১২ বছর আগে অন্য এক মহিলার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। ওই মহিলা পারিবারিক অশান্তির কারণে প্রায় দু’বছর আগে তাকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান।
এর পরেই ছবিদেবীর সঙ্গে তার মেলামেশা অনেকটাই বেড়ে যায়। প্রায়ই তার আবাসনে যাতায়াত করতেন ছবিদেবী। অনেকেই তাঁদের দু’জনকে স্বামী-স্ত্রী বলেই জানতেন। ছবিদেবীর সহকর্মী কৃষ্ণ পাত্র বলেন, ছবির আত্মীয়-স্বজন কেউ ছিল না। সে অভিযুক্তের সঙ্গে থাকছিল। সে তাঁকে খুন করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্গাপুর-১ নম্বর ব্লকের সভাপতি রাজীব ঘোষ বলেন, অভিযুক্ত ডিএসপিতে ঠিকাশ্রমিক ছিল। বহুবছর আগে কাজ ছেড়ে দিয়েছে। মানসিকভাবে সে স্বাভাবিক ছিল না। ছবিদেবীকে মারধর করত। এদিন আবাসনের একটি গুদামঘর থেকে তাঁর কঙ্কালসার মৃতদেহটি উদ্ধার হয়েছে। এলাকার ক্ষুব্ধ মহিলারা তার উপর চড়াও হয়েছিল। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।