Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরের নামে হয়রানির অভিযোগ শুনানি কেন্দ্রেই আত্মহত্যার হুমকি বৃদ্ধার

এসআইআরের নামে চরম হয়রানির অভিযোগ। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতে শুনানি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিলেন এক বৃদ্ধা।

এসআইআরের নামে হয়রানির অভিযোগ শুনানি কেন্দ্রেই আত্মহত্যার হুমকি বৃদ্ধার
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এসআইআরের নামে চরম হয়রানির অভিযোগ। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতে শুনানি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিলেন এক বৃদ্ধা। জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসে এদিন হিয়ারিংয়ে এসেছিলেন গড়ালবাড়ি বেলতলার বাসিন্দা লাভলি প্রধান। তিনি বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। তারপরও আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এনিয়ে আতঙ্কে আছি। গোটা পরিবার দুশ্চিন্তায়। ভোটে নাম কাটা গেলে আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হব।

Advertisement

বছর ষাটের ওই বৃদ্ধা এসআইআর নিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে এদিন শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেলেন। বলেন, সমস্ত নথি ঠিক থাকা সত্ত্বেও এসআইআরের নামে নোটিস ধরিয়ে শুধু শুধু হেনস্তা করা হচ্ছে।

সংখ্যালঘু পরিবারকে বেছে বেছে এসআইআর শুনানির নোটিস ধরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ গড়ালবাড়ি বেলতলার বাসিন্দা আনোয়ারা বেগমের। এদিন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসে হিয়ারিং সেন্টারে দাঁড়িয়ে তাঁর তোপ, যদি কোনও সংখ্যালঘু পরিবারে পাঁচজন সদস্য থাকেন, কমপক্ষে তিনজনকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে। কোনও কোনও পরিবারের সবাইকে শুনানিতে তলব করা হয়েছে। পরিবারে চারজন ছেলেমেয়ে থাকলে ছ’জন বা তার বেশি নোটিস ধরানো হচ্ছে। এসবের মানে কী? আনোয়ারার দাবি, শুনানির নোটিস পেয়ে পরিবারের সদস্যদের রাতের ঘুম ছুটছে। কাজকর্ম ফেলে শুনানিকেন্দ্রে ছুটে আসতে হচ্ছে। নথি নিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, গত বিধানসভা ভোটের নিরিখে যেসব এলাকায় তাদের লিড রয়েছে, সেখানে সন্দেহজনক ভোটারের নামে নোটিস ধরানোর হিড়িক পড়ে গিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গড়ালবাড়ি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে তৃণমূলের লিড ছিল প্রায় ৩৮০০ ভোট। সেকারণে এখানে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে নোটিস ইস্যু চলছেই। পঞ্চায়েতে ১৮ হাজার ভোটারের মধ্যে ৭ হাজার জনকে ইতিমধ্যে নোটিস ধরানো হয়েছে।

বিজেপির অবশ্য বক্তব্য, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির জন্যই এসআইআর। নির্বাচন কমিশন সেটাই করছে। তৃণমূলের উদ্বেগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ছাব্বিশে ভোটের ফল কী হতে চলছে।

তবে শুধু সংখ্যালঘুরা নন, জলপাইগুড়িতে শুনানির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না অন্য সম্প্রদায়ের ভোটাররাও। গড়ালবাড়ি বেলতলা এলাকার বাসিন্দা রীতা রায় বলেন, কীসের জন্য শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারিনি। শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে সকাল থেকে বিডিও অফিসে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছি। মানুষজন পরিবার, কাজকর্ম সব ছেড়ে হিয়ারিং সেন্টারে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে জলপাইগুড়িতে সরব হয়েছে নস্য শেখ উন্নয়ন পরিষদ। এদিন শহরে মিছিল করে তারা জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেয়। তাদের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নামে সাধারণ মানুষের উপর অসম্ভব মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। নথি পেশ করা সত্ত্বেও তা অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। আরও কী নথি রয়েছে তা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তারা। • লাভলি প্রধান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ