নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহানগরীর বুকে একাকী বৃদ্ধাকে খুন করে লুটপাট! বুধবার সন্ধ্যায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মুচিপাড়া থানা থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে ১০/১ সার্পেন্টাইন লেনে। কলকাতা পুলিসের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মুচিপাড়া থানার পাশাপাশি লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা এই ঘটনার তদন্তে নেমেছেন। বুধবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কলকাতা পুলিস কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
স্থানীয় কাউন্সিলার সজল ঘোষ বলেন, বছর সত্তরের নমিতা পাল সার্পেন্টাইন লেনের বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর দুই ছেলে প্রয়াত হয়েছেন। বুধবার দিনভর সদর দরজা তালা বন্ধ থাকায় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা সাড়াশব্দ না পাওয়ায় মুচিপাড়া থানায় খবর দিলে পুলিস এসে দরজা ভেঙে নমিতাদেবীর নিথর দেহ উদ্ধার করে। নমিতাদেবীর গোটা ঘর লণ্ডভণ্ড। ঘরময় ইতিউতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক পাউচ প্যাকেট। সাধারণত, মধ্যবিত্তের বাড়িতে ওই ধরনের পাউচ প্যাকেটে গয়না বা নগদ টাকা রাখা হয়। সম্ভবত গয়না ও টাকা লুট করতেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দাদের অনুমান, সম্ভবত গামছা বা কাপড় জাতীয় কিছু জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে নমিতাদেবীকে। খুনি একজন নাকি একাধিক, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে লুটের উদ্দেশ্যেই যে বৃদ্ধাকে খুন, সে ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত গোয়েন্দারা। নমিতাদেবীর ঘর থেকে কী কী লুট হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।
তবে খুনি নমিতাদেবীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় সদর দরজায় তালা দিয়ে গিয়েছে। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ওই তল্লাটের সবকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। ওই ফুটেজ পেলেই আততায়ী কে বা কারা, তা জানা যাবে। এই ঘটনায় মুচিপাড়া থানার পুলিস খুন ও লুটের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।